চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় দাস হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল বঙ্গোপসাগরে উদ্ধার হওয়া অবৈধ অভিবাসীদের। মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে জোর করে ট্রলারে তোলা হয়েছিল তাদের। রাতের আধারে পাচারের উদ্দেশ্যে উপকূল থেকে ছেড়ে যায় ট্রলারটি।
মঙ্গলবার গভীর রাতে উদ্ধার হওয়া ১১৬ জনের অনেকেই পাচারের এমন রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। উদ্ধারের পর এখন তারা স্বজনদের কাছে ফিরে গেলেও ভয়ানক সে যাত্রার কথা মনে করে আজও আতঙ্কিত তারা।
মাছ ধরার ছোট একটি ট্রলারে ১১৬ জনকে গাদাগাদি করে আটানো হয়েছিল জোর করে। রাতের অন্ধকারে টেকনাফের সমুদ্র উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে ট্রলারটি। মিয়ানমার সীমান্তে পৌঁছালে পাচারকারীরা সেখানে নেমে ট্রলারটি সাগরে ভাসিয়ে দেয়। গন্তব্যহীন ট্রলারে গভীর সাগরে ভাসতে থাকে ১১৬ জন বাংলাদেশি অভিবাসী।
কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে কলাতলী সৈকতে কাজের খোঁজে এসেছিলেন নূর কবির। সেখান থেকেই তাকে অপহরণ করে ট্রলারে তোলা হয় বলে জানান তিনি।
যশোর থেকে আসা রিয়াজ মোহাম্মদও জানান, বিদেশে কাজ দেয়ার কথা বলে, মিষ্টি কথার ফাঁদে ফেলে ট্রলারে তোলা হয়।
সিরাজগঞ্জের হাবিবুল্লাহ অবশ্য এলাকার বড় ভাইয়ের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্য এসেছিলেন কক্সবাজার। কিন্তু বিমানের বদলে পিস্তল ঠেকিয়ে ট্রলারে তোলা হয় তাকে।
মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দলটিকে পাচারের চেষ্টা করছিল দালালেরা। কোস্টগার্ডের অভিযানের আগেই তারা পালিয়ে যায় বলে জানান, সেন্টামার্টিনে কোস্টগার্ডের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট বিসন চৌধুরী।