যারা ধ্বংসের রাজনীতি আর মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের ভোট দেবেন না— রাজনীতি করার অধিকার তাদের নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি-জামাত মানেই ধ্বংসের রাজনীতি উল্লেখ করে ধ্বংসকারীদের ভোট না দেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিএনপি বিদ্যুৎ দিতে পারে না, কিন্তু আওয়ামী লীগ বিদ্যুৎ দিলে ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুড়িয়ে ধ্বংস করে। বিএনপি মানেই ধ্বংসের রাজনীতি করা। জামাত মানেই ধ্বংসের রাজনীতি করা। তারা মানুষের ধ্বংস করতে পারে। এদের মতো জঘন্য রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ আর দেখে নাই।
সন্ত্রাসীদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই—উল্লেখ করে তাদেরকে ধরিয়ে দেয়ার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামাত আপনাদের বিদ্যুৎ দিতে পারেনি, দিয়েছে গুলি। বিদ্যুতের জন্য আপনারা আন্দোলন করায় তারা আপনাদের উপর গুলি চালিয়েছিল। সেদিন ১৮ জন মানুষকে গুলি করে হত্যা করে তারা।
অবরোধ হরতালের নামে যারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হবে বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরে ছিট মহলবাসীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান শেখ হাসিনা। পরে সাফল্যের নানা দিক তুলে ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ উন্নয়নের নানা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এর আগে এর আগে বেলা একটার দিকে সদর উপজেলার সাহেবেরঘাট এলাকায় গিয়ে মহানন্দা নদীর ওপর ‘শেখ হাসিনা সেতু’ (দ্বিতীয় মহানন্দা সেতু) উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। এ সেতু উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন সরাসরি ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের আওতায় এলো।
এ সাতটি উজেলার ৮০% কৃষি জমিতেই রয়েছে আমের বাগান। এলাকাবাসির দাবির প্রেক্ষিতে সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে ‘শেখ হাসিনা সেতু’।
এরপর প্রধানমন্ত্রী চাপাইনবাবগঞ্জ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউট উপকেন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জ অন্ধ কল্যাণ সমিতির চক্ষু হাসপাতাল উদ্বেধন করেন।
এছাড়াও সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণসহ সড়ক ও বাঁধ নির্মানের কয়েকটি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।