যশোর সদর উপজেলার গ্রামে গ্রামে এখন শোকের ছায়া। সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাবার পথে এখানকার তিন যুবক মারা গেছেন। এরইমধ্যে একজনের মরদেহ নিয়ে আসা হলেও, বাকি দুই জনের মরদেহ ফেলে দেয়া হয়েছে সাগরে। মালয়েশিয়াগামীদের মধ্যে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আটজন। তাঁরা বেঁচে আছেন, না মারা গেছেন-তাও জানেন না স্বজনরা।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সংসারের একটু সুখ ও স্বচ্ছলতার জন্য যশোর সদর উপজেলার কুয়াদা সিরাজসিঙ্গিয়া, ভাটপাড়া, বাহিরমল্লিক, ডহরসিঙ্গিয়া ও কমলাপুর গ্রামের কয়েকজন যুবক দালালের হাত ধরে মালয়েশিয়ার পথে যাত্রা করেন।
গত ৩ মাস আগে বৈধ উপায়ে আকাশপথে নেয়ার কথা বলে, অবৈধভাবে সমুদ্রপথে নেয়া হয় তাদের। এ সময় মারা যান লাল্টু, শহীদুল ইসলাম ও ইয়ার আলী নামের তিন যুবক। এদের মধ্যে লাল্টুর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও বাকি দু'জনের মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় বঙ্গোপসাগরে।
একইসঙ্গে মালয়েশিয়া যাত্রীদের মধ্যে নিখোঁজ রয়েছেন ৮ জন। তাদের জন্য দুশ্চিন্তা আর আশঙ্কায় কাটছে স্বজনদের প্রতিটি মুহূর্ত।
কুয়াদ এলাকায় প্রায় দেড় ডজন দালাল রয়েছে। যারা প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়া নেয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে, মানব পাচারের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্কাস আলী।