মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড যাওয়ার প্রলোভনে পড়ে গত ১০ বছরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর হাজারেরও বেশি মানুষ মানবপাচারের শিকার হয়েছে। দালালদের দাবি করা মুক্তিপণ দিয়েও স্বজনদের ফিরে পাননি অনেকে। পাচারকারীদের নির্যাতনে অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, স্থানীয় ৩৪ জন দালালের তালিকা তৈরি করলেও এ পর্যন্ত মাত্র ৫ জনকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে পুলিশ।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ৯১ এর ঘূর্ণিঝড়ে ঘরের ছাদে উঠে শিশুসন্তান রবিউলকে কোলে নিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার আজমত ফকির। ২৪ বছর পর পাচারকারী চক্রের খপ্পরে সেই সন্তানকে হারিয়ে এখন অবিরাম চোখের পানি ফেলেন বাবা।
রবিউলের মতো গত এক দশকে এ উপজেলার হাজারেরও বেশি মানুষকে এখান থেকে এভাবে পাচার করা হয়েছে। স্বচ্ছলতার স্বপ্ন আর বেশি বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা মানুষকে বিভ্রান্ত করে আসছে।
পাচার হলেও প্রাণ নিয়ে ফিরে আসা কেউ কেউ বলেন, মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ট্রলার ছাড়লেও কিছুদূর গিয়েই দালালরা তাদের ওপর অত্যাচার শুরু করে। সহায়-সম্বল বেঁচে দালালদের দাবি করা মুক্তিপণ শোধ করেন স্বজনরা। তারপরও ফিরে আসতে পারেন না অনেকে। দালালদের নির্যাতনে ট্রলারেই কারো কারো মৃত্যু হয়।
মানবপাচারকারী এই দালালরা রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলেই উল্টো হুমিক দেয়।
এ পর্যন্ত মানবপাচারের ৩টি মামলায় ৩৪ দালালের তালিকা করেছে পুলিশ। এরমধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করলেও অভিযুক্ত কারও নাম ঐ তালিকায় নেই। এদিকে, জড়িতরা প্রভাবশালী হলেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না দাবি করছে পুলিশ।