টানা এক সপ্তাহ ধরে খুলনা বিভাগে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করছে মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। অভ্যন্তরীণ ৬টি রুটে বাস চলাচল করলেও বন্ধ ছিল ১২টি রুটে। সোমবার তা প্রত্যাহারের ফলে রাত থেকেই বাস চলাচল শুরু করেছে।
প্রায় ৭ দিন ধরে ধর্মঘটের কারণে বরিশাল ছাড়া সব বিভাগের সঙ্গে খুলনার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
বাসে ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ৩ পরিবহন শ্রমিককে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলে ঘোষণা দেন পরিষদের নেতারা। তবে, ডাকাতির ঘটনায় তারা জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন ওই বাসের যাত্রীরা।
যাত্রীরা মামলা দায়ের করায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
এর আগে শনিবার দুপুরে যশোর শ্রমিক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ তাদের দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলো ছিল- সোহাগ পরিবহনের আটক চালক ও হেলপারদের মুক্তি, পরিবহনে ডাকাতির ঘটনায় মামলা এবং মামলা না নিয়ে হয়রানি করায় সংশ্লিষ্ট ওসিকে প্রত্যাহার।
ওইদিন সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল আলম বলেন, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিকদের মুক্তি না দিলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবহন ধর্মঘট সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সে ব্যাপারে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে—এ কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আমরা ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। কারণ, পুলিশের ওপর আমাদের আস্থা নেই। পুলিশ দিয়ে ওই ঘটনার তদন্ত করা হলে আমরা ন্যায়বিচার পাব না বলে আশঙ্কা করছি।
সংগঠনের আহ্বায়ক আলী আকবর লিখিত বক্তব্যে বলেন, ১৯ মে রাতে ঢাকা থেকে সোহাগ পরিবহনের একটি বাস বেনাপোলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে ফরিদপুরের মধুখালীতে বাসটি ডাকাতের কবলে পড়ে। ডাকাতি করে ডাকাতেরা নেমে যাওয়ার পর চালক আয়নাল হোসেন বাসটি নিয়ে থানায় হাজির হন।
এ সময় তিনি ডাকাতির বিষয়টি উল্লেখ করে মামলার নেয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু মধুখালী থানার ওসি ১৯ মে ফরিদপুরের এসপির নির্দেশে চালককে সকাল পর্যন্ত বসিয়ে রাখেন। এরপর চালক আয়নাল, হেলপার অপু ও চেকার রবিউলকে আসামি করে ডাকাতির মামলা করে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে খুলনা ও বরিশাল রুটে পরিবহনের ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও তাদের মুক্তি দেয়া হয়নি।
এ কারণে গত ২২ মে থেকে পরিবহনের পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৮ রুটে ভাড়ায় চালিত সব ধরনের যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ২৩ মে পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা ধর্মঘট অব্যাহত রাখেন। এ দাবি আদায় না হলে, মালিক-শ্রমিক মিলে সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট ও বাস ধর্মঘট ডাকা হবে।