বিদেশ নিয়ে যাওয়ার কথা বলে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ থেকে সমুদ্র পথে পাচারের শিকার পরিবারগুলোর দিন কাটছে চরম-অভাব অনটনে।
দু'বেলা ঠিকমতো খাবার জোটেনা অনেক পরিবারেই। টাকার অভাবে সন্তানদের স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে পাচারকারীদের। মানবপাচার করে গাড়ি-বাড়ি করাসহ রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন।
যশোরের মনিরামপুরে অসংখ্য মানুষ দরিদ্রপীড়িত। এই সুযোগে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে নিয়ে গিয়ে চাকরি দেয়ার কথা বলে এলাকার অসংখ্য নারী-পুরুষের কাছ থেকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় মানবপাচারকারি চক্রের সদস্যরা। কিন্তু দালালরা অবৈধভাবে সমুদ্রপথে পাচার করার চেষ্টা করায় অনেকের ভাগ্যেই জোটে কারাগার, কারো বা নির্যাতন। আবার অনেককেই হত্যা করে মরদেহ সাগরে ফেলে দিয়েছে পাচারকারীরা।
বিদেশ যাত্রার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া পরিবারের সদস্যদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দুইবেলা ঠিকমতো খাবারও জুটছে না তাদের। টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে সন্তানদের পড়া-লেখাও।
এদিকে ভিন্ন চিত্র, পাচারকারীদের ক্ষেত্রে। কয়েকবছর আগেও যারা দিনমজুর ছিল মানবপাচার করে আজ তারা কোটিপতি করেছে গাড়ি-বাড়িও। আব্দুর রহমান তার এক দৃষ্টান্ত। তবে রহমান এখন আর মানবপাচার করছে না বলে দাবি তার স্ত্রীর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় কয়েকশো মানবপাচারকারী থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করছে যশোরের পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান।
মনিরামপুরের অন্তত আড়াই হাজার নারী-পুরুষ পাচারের শিকার। এদের মধ্যে অনেকেই সাগরপথে মারা গেছেন। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার নারী-পুরুষ বলে জানা গেছে।