শবে বরাতের রাতে (মঙ্গলবার) কুমিল্লার চান্দিনায় যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় দগ্ধ হয়েছেন ৭ জন।
এদিকে, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক হাসানুজ্জামান কল্লোল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গোলামুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের এ কমিটি গঠন হয়েছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, চান্দিনা ও দেবিদ্বার উপজেলার দুই ইউএনও এবং চান্দিনার দায়িত্বপ্রাপ্ত এএসপি এই কমিটির সদস্য থাকছেন।
গুরুতর দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন রাঙ্গামাটি মহিলা কলেজের অধ্যাপক রণজিৎ শর্মা ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উপদেষ্টা অঞ্জন কে দে। তাদের দুজনকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শ্বাসনালী দগ্ধ হওয়ায় তাদেরকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। বাকি ৫ জনকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এদিকে, হামলার ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। জড়িতদের ধরতে পুলিশ ও র্যারব অভিযান চালাচ্ছে।
ইউনিক পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি যাচ্ছিল ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি। যাত্রাপথে মধ্যরাতে কুমিল্লার চান্দিনা এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা বাসটিতে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে।
আহতদের স্বজন ও সহকর্মীরা জানান, চান্দিনা বাজার পার হওয়ার পর বাসটিতে পেট্রোল বোমা হামলা চালানো হয়।
বার্ন ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় এ দু'জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওই সময়ে দেশে যারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে নাশকতা করেছে তারাই শবে বরাতের রাতে বাসে নাশকতার পেছনে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক হাসানুজ্জামান।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রকৃত দুষ্কৃতকারীদের ধরার জন্য র্যা ব, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান চালানো হবে।
এর আগে বিএনপি-জামাতের টানা হারতাল-অবরোধের সময় চলে দেশব্যাপী নাশকতা। বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের ওপর চলে নির্বিচারে পেট্রোল বোমা হামলা। ৩ মাস ধরে চলা হরতাল-অবরোধকারীদের এ সব পেট্রোল বোমা হামলায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রাণ হারান দেড় শতাধিক নিরীহ মানুষ। আহত হন অনেকে।