পাচারকারীদের নৌকায় প্রায় দুই মাস সাগরে ভাসার পর দেশে ফিরে আসা ১৪৬ জন বাড়ি ফিরতে শুরু করছেন।
বুধবার সকালে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাবাদ সম্মেলন করে জেলা প্রশাসক বলেন, আজ থেকেই এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ১৪৬ জনের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক ২৪ জনকে রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাকিদের পুলিশের তত্ত্বাবধানে নিজ নিজ জেলায় পাঠানো হবে—তবে কারও খোঁজে স্বজনরা কক্সবাজারে থাকলে তাদের কাছেই হস্তান্তর করা হবে।
বুধবার সকালে সংবাদ ব্রিফিংয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, “আটক চারজন বাদে সবাইকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে, অথবা বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে। সবাই নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা করবেন।”
এই বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে এনে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু পর্যন্ত মানবিক সহায়তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
সংস্থার ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার আসিফ মুনীর জানান, মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টায় প্রায় দুই মাস এই বাংলাদেশিরা পাচারকারীদের নৌকায় ভয়ঙ্কর জীবন কাটিয়েছেন। তারা সবাই স্বজনদের কাছে ফিরতে উদগ্রীব।
এদের মধ্যে নরসিংদীর ৫৬ জন, কক্সবাজারের ২৭, ঝিনাইদহের ১২, টাঙ্গাইলের ৩, চট্টগ্রামের ৮, চুয়াডাঙ্গার ৪, নারায়ণগঞ্জের ২, সুনামগঞ্জের ৪, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার ৬, বান্দরবানের ৯, কুমিল্লার ১, চাঁদপুরের ১, রাজবাড়ির ১, যশোরের ১, পাবনার ৫, হবিগঞ্জের ১, বাগেরহাটের ৪ এবং নাটোরের একজন রয়েছেন।
গত ২১ মে সাগরে ভাসমান পাচারকারীদের একটি নৌকা থেকে ২০৮ জনকে উদ্ধার করে মিয়ানমারের নৌবাহিনী। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তাদের মধ্যে ১৫০ জনকে বাংলাদেশি হিসাবে শনাক্তের পর সোমবার দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে বিজিবি তাদের দেশে ফিরিয়ে আনে।
কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রেখে সোমবার রাতে তাদের ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন কর্মকর্তারা। পরে মঙ্গলবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হামিদ হোসেন (২৬) ও মোহাম্মদ ইদ্রিস (১৯) নামের দুজনকে কক্সবাজার ক্যাম্পারে রোহিঙ্গা হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
তাদের মধ্যে হামিদ মানবপাচারে জড়িত বলে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে। তার সঙ্গে যশোরের উজ্জ্বল হোসেন (২৩) নামের আরেকজনকে মানবপাচার মামলার আসামি হিসাবে শনাক্ত করা হয়।
এছাড়া রাজবাড়ী জেলার শফিকুল ইসলাম (৩৬) ও কক্সবাজারের সাদ্দাম হোসেন (২৫) দুটি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানতে পারেন। এ চারজনকে মঙ্গলবারই কক্সবাজার সদর থানায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।