ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার উত্তর বাঁশহাটী গ্রামে পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় শুক্রবার রাতে একই পরিবারের ৪ জন নিহত হয়েছেন। ঘটনায় অভিযুক্ত লাল মিয়ার ছেলে জামালের (২২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আবদুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি সৈয়দ আবদুল্লাহ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, বাবা ও তিন ছেলে খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে খোকন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে নান্দাইল থানা পুলিশ। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে দুই ভাই বিল্লাল হোসেন ও লাল মিয়ার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বেশ কিছুদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার সকালে এ নিয়ে উভয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় দুই পরিবারের নারী সদস্যদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
এরই জের ধরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে লাল মিয়া ও তার দুই ছেলে ধারাল অস্ত্র নিয়ে বিল্লাল হোসেনের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। তাদের হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বিল্লাল হোসেন এবং তার তিন ছেলে ফরিদ মিয়া, পাভেল মিয়া ও হিমেল মিয়া।
পাভেল মিয়া স্থানীয় একটি স্কুলে দশম ও হিমেল মিয়া নমব শ্রেণিতে পড়ত।
এছাড়া হামলায় গুরুতর আহত হন বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী বানেছা বেগম–তাকে নান্দাইল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে লাল মিয়া পলাতক থাকলেও তার ছেলে জামালের মরদেহ ভোরে বাঁশাতি এলাকায় বাড়ির পেছন থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নান্দাইল থানার সেকেন্ড অফিসার উপ পরিদর্শক (এসআই) মুরাদ আলী শেখ বলেন, মরদেহের বুকে ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের জখম রয়েছে। মৃত জামাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে দুই কিলার ভাড়া করে এনেছিলেন বলে পুলিশের ধারনা।
তিনি বলেন, তারাই হয়তো জামালকে হত্যা করতে পারে।