বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরে ১৬২ ছিটমহলে একযোগে শুরু হয়েছে যৌথ সমীক্ষা। সোমবার সকালে ভারত- বাংলাদেশ যৌথ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সরকারিভাবে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়।
ছিটমহলবাসীর নাগরিকত্ব নির্ধারণ এবং হেড কাউন্টিং হালনাগাদের এ কার্যক্রম চলবে ১৬ জুলাই পর্যন্ত। আগামী ২০ জুলাই জনগণনার চুড়ান্ত তালিকা দুই দেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দীর্ঘ ৬৮ বছর পর স্বীকৃতি দিতে যৌথভাবে ছিটমহলবাসীদের নাগরিকত্ব নির্ধারণ এবং হেড কাউন্টিং কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার। সকালে এ গণনা কাজে দু'দেশের গণনাকারী দল ছিটমহলে জনসংখ্যার পাশাপাশি সেখানকার বাসিন্দারা কোন দেশে থাকতে চায় তাও জেনে নিয়ে দেশ বদলের তালিকা তৈরি করবেন। এতে প্রত্যেকের জমির পরিমাণসহ কতজন দেশ পরিবর্তন করতে চান তাও জানা যাবে।
বাংলাদেশ-ভারতের ১৬২টি ছিটমহলের মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের সবচেয়ে বড় ছিটমহল কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড়াসহ জেলার ১২টি ছিটমহলে যৌথভাবে দুদেশের ১০টি সমীক্ষা টিম কাজ করেছে।
এদিকে, ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ছিটমহল লালমনিরহাটের দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতায়ও সকাল থেকেই শুরু হয় যৌথসমীক্ষার মাধ্যমে জণগণনা কার্যক্রম। ছিটমহলবাসীদের ছবি তোলা, কে কোন দেশের নাগরিকত্ব পেতে ইচ্ছুক এসব তথ্য নিচ্ছেন জণগণনাকারীরা।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে জেলার ৩৬টি ছিটমহলে ১৮টি ক্যাম্পের মাধ্যমে জনগণনা কাজ শুরু হয়। গণনায় অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ১৭ জন এবং ভারতের ২৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল।
ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নীলফামারীর ৪টি ছিটমহলে চলছে গণনা কার্যক্রম। এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ ও ভারতের ২ জন করে গণনাকারী ও এক জন করে সুপারভাইজার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
আগামী ৩১ জুলাই রাত বারোটায় দু'দেশের মধ্যে এসব ছিটমহল আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিময়ের কথা রয়েছে।