ছয় মাস আগে মিলে আখ সরবরাহ করে এখনো পাওনা আদায় করতে পারিনি আখচাষীরা আবার বেতন না পাওয়ায় হতাশ শ্রমিকেরা।
সব মিলিয়ে হতাশায় ভুগছেন ফরিদপুর সুগার মিল জোনের আট হাজার আখচাষী ও শ্রমিকরা। তাই ঈদের আগে তাদের পাওনা দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন চিনিকলের আট শতাধিক শ্রমিকের পরিবার। অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তাদের বোনাস প্রাপ্তিও। গুদামের চিনি বিক্রি না হওয়ায় টাকা পরিশোধ করতে পারছে না বলে জানায় মিল কর্তৃপক্ষ।
ঈদের আগেই কৃষকদের পাওনা টাকা পরিশোধ ও শ্রমিকদের বেতন বোনাস দেয়া হবে এমনটাই দাবি করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।
বিপুল পরিমাণ চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকায় মিলজোনের কৃষকদের আখের দাম এবং শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা যাইনি জানান ফরিদপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন।
ফরিদপুর চিনিকল গুদামে প্রায় ১০ হাজার ২০০ মেট্রিকটন চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। মিলগেটে ৩৭ টাকা কেজি দরে বিক্রির কথা থাকলেও বাজারে সয়লাব সস্তা চিনির দাপটে উৎপাদিত চিনির ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে দীর্ঘদিন ধরে মজুত থাকায় প্রায় ৩৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার চিনি নষ্ট হচ্ছে।
শিগগিরই এসব চিনি বিক্রি না হলে চিনির মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন মিল কর্তৃপক্ষ।
আখ সরবরাহের ছয়মাসেও টাকা না পাওয়ায় আখ চাষ ছেড়ে দেয়ার কথাও জানান চাষীরা।
আর গত তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় সংসার চলছে না শ্রমিকদের—বোনাসের কোনো আশা না থাকায় ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে তাদের পরিবার পরিজনদের।