বকেয়া বেতন, বোনাস ও ২০% মহার্ঘ ভাতাসহ পাঁচ দফা দাবিতে খুলনা ও যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ব ৭টি পাটকলের শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন।
মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ শ্রমিক সংগঠন এ ধর্মঘটের ডাক দেয়।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর ডাকে সাড়া দিয়ে এসব মিলের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে আন্দোলন শুরু করেছেন।
জানা গেছে, এরইমধ্যে শ্রমিকরা সব মিলের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেছেন।
দাবি মেনে নেয়া না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিকরা।
আর এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খুলনা শিল্প নগরী খালিশপুর শ্রমিক আন্দোলন আবার উত্তাল হয়ে ওঠার আশংকা দেখা দিয়েছে। তাদের এই দাবি মেনে নেয়া হলে আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা বলেন
সমাবেশে আসা বক্তরা।
তারা বলেন , চলতি মাসের প্রথম দিকে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিকের সঙ্গে ঐক্য পরিষদের বৈঠক হয়—ওই বৈঠকে মন্ত্রী ঈদের আগে সব বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দেন।
কিন্তু মন্ত্রীর সে আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি বলে জানান সংগঠনের নেতারা।
এসময় ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন, সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহ আলম, কাওসার আলী মৃধা ও খলিলুর রহমানসহ শ্রমিক নেতারা সমাবেশে বক্তৃতা করেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদ খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
রাজপথের আন্দোলন তীব্রতর করার মাধ্যমে দাবি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।
ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার সকাল থেকে প্রতিটি মিলে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচি চলাকালে শ্রমিকরা নিজ নিজ মিল গেটে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন।
অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ফলে খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, আলীম, ইস্টার্ন জুটমিল ও যশোরের জেআই ও কার্পেটিং জুটমিলে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।