শিশু সামিউল হত্যার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের আলোচনা চলছে—জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।
বুধবার সামিউল আলম রাজনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সিলেটে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
গতকাল শিশু সামিউলের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেয়ার দেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার।
জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন ও সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার মো. কামরুল আহসান গতকাল বেলা ১১টায় তারা সামিউলের বাড়িতে গিয়ে খুনিদের যথাযথ বিচারের আওতায় নিয়ে আসার আশ্বাস দেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, সামিউল হত্যার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে।
তদন্ত কমিটি গঠন: সামিউলের বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল পুলিশের তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এম রুকন উদ্দিনকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে এ কমিটি গতকাল থেকে কাজ শুরু করেছে।
এ ব্যাপারে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. রহমত উল্লাহ বলেন, ‘শিশু সামিউলের বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের গাফিলতি এবং ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখার জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আদালতে জবানবন্দি: ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া আজমত উল্লা ও ফিরোজ আলী আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. সাহেদুল করিম তাঁদের জবানবন্দি ১৬১ ধারায় রেকর্ড করেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। গত সোমবার গ্রেপ্তার হওয়া মুহিতের স্ত্রী লিপি বেগমকেও গতকাল কারাগারে পাঠানো হয়।
সিলেটের কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গত বুধবার খুঁটির সঙ্গে সামিউলকে (১৪) বেঁধে রোলার দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নির্যাতনকারীরাই সামিউলকে নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ধারণ করে। সামিউলের লাশ ফেলতে গিয়ে ধরা পড়ে কামরুলের বড় ভাই মুহিত আলম (৩৫)।
এ ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। মামলায় মুহিত ও কামরুল ছাড়াও হায়দার আলী ওরফে আলী নামে তাদের আরও এক ভাই ও কুমারগাঁওয়ের চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়নাকে আসামি করা হয়।