কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ায় বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে নোয়াখালী, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টার টানা বর্ষণে ভোলার ইলিশা ঘাট এলাকার এক তৃতীয়াংশ ভেঙে গেছে। ফলে ভোলার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এদিগে, দুর্গত এলাকাতে ডায়রিয়া ও পানি বাহিত অন্যান্য রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের চকবাজার, বহদ্দারহাট, ডিসি রোড ও হালিশহর এলাকায় জলাবদ্ধতা যেন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের। এছাড়া, চট্টগ্রামের বির্স্তীণ এলাকায় বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বেশ কিছু এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালীর মানুষ। এরমধ্যে সাতকানিয়া বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে ৪ দিন।
আবহাওয়া অফিস পক্ষ থেকে জানা গেছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় সাগর মাঝারি ধরনের উত্তাল রয়েছে। এতে, চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজারকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, বান্দরবান জেলার বান্দরবান-কেরানীহাট প্রধান সড়কের বাজালিয়ার বরদুয়ারাসহ কয়েকটি স্থানে বন্যার পানিতে সড়ক তলিয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পাহাড় ধসে রোয়াংছড়ি উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
ফেনীর ফুলগাজীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সদর ও দাগনভূঁঞা উপজেলায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি এলাকা। এসব অঞ্চলের মৎস্য খামার ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। তলিয় গেছে বীজতলা, আউশ ধান ও সবজি ক্ষেত।
এছাড়াও, পৌরসভার শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক এক থেকে দেড় ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া, মুহুরী ও কহুরা নদীর বেড়িবাঁধের পাঁচটি ভাঙন স্থান দিয়ে বন্যার পানি ফুলগাজী বাজার ও আশপাশে গ্রামে ঢুকে পড়েছে।
উত্তাল হয়ে উঠেছে ভোলার মেঘনা। গত ২৪ ঘন্টার ভাঙ্গনে ভোলার ইলিশা ঘাট এলাকার এক তৃতীয়াংশ ভেঙে গেছে। এতে, ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের ফেরী চলাচল বন্দ রয়েছে। এতে, ভোলা সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রবল বৃষ্টি ও জোয়ারের চাপে ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে রাস্তা, ফসলি জমি ও দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
এদিকে, বৈরী আবহাওয়ায় পদ্মা নদী উত্তাল হয়ে উঠায় শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে যাত্রীবাহি লঞ্চ, সী বোট ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে এ সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।