বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বহু প্রতিক্ষিত ছিটমহল বিনিময় হচ্ছে আজ। এ মাহেন্দ্রক্ষণটিকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে ছিটমহলবাসীদের মধ্যে। শুক্রবার দুপুরে বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এর আনুষ্ঠানিকতা।
এর মধ্য দিয়ে এর বাসিন্দারা দু'দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবেন। অবসান হচ্ছে ছিটমহলবাসীর ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ জীবনের।
এর মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামের ১২টি, লালমনিরহাট ৫৯টি, পঞ্চগড়ের ৩৬টি ও নীলফামারীর ৪টিসহ মোট ১১১টি ছিটমহলের ৪১ হাজার ৪৪৯ জন বাসিন্দা পাবেন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব। অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশি ৫১টি ছিটের বাসিন্দারা হবেন ভারতীয় নাগরিক।
কুড়িগ্রামের দাসিয়ার ছড়া ছিটমহলে রাত ১২টা ১মিনিটে ভারতীয় পতাকা নামিয়ে উত্তোলন করা হবে বাংলাদেশের পতাকা। আনুষ্ঠানিক বিনিময়ের মাহেন্দ্রক্ষণে ৬৮টি মোমবাতি জ্বালিয়ে ৬৮ বছরের বঞ্চিত জীবনের প্রতীকী অবসান ঘটাবেন ছিটবাসীরা। আতশবাজী পোড়ানোর পাশাপাশি ফানুসও ওড়ানো হবে। এছাড়া দিনভর নৌকাবাইচ, ঘোড়-দৌড়, লাঠি খেলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
ছিটবাসীর এই উৎসবে শামিল হবেন রাজনৈতিক, সামাজিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম কর্মীরা বলে জানালেন বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল সমন্বয় কমিটির সভাপতি মো. মঈনুল হক।
এর আগে, গত ৬ জুলাই বাংলাদেশ ও ভারতের সবগুলো ছিটমহলে দুইদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একযোগে শুরু হয় যৌথ সমীক্ষা। চলে ১৬ জুলাই পর্যন্ত।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ছিটমহলের ৯৭৯ জন বাসিন্দা ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করলেও ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ছিটমহলের কোনো বাসিন্দাই এ আবেদন করেননি।