মূলভূখণ্ডে যুক্ত হওয়া ১১১টি বিলুপ্ত ছিটমহলে উড়ছে বাংলাদেশের পতাকা। ভারতের সঙ্গে শুক্রবার মধ্যরাতে ছিটমহল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটলো ৬৮ বছরে প্রতীক্ষার। এর মধ্য দিয়ে উভয় দেশের ১৬২টি ছিটমহলের বাসিন্দা পেলেন রাষ্ট্রীয় পরিচয়।
স্বাধীন দেশের মধ্যে থেকেও যারা ছিলেন পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দি, নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পাওয়ায় উদ্বেলিত তারা। ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত পেরুনোর সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের ভেতরে ১১১টি ছিট-ভূখণ্ডের মানুষ মুক্তির আনন্দে উল্লাসে ফেটে পড়েন।
পতাকা, প্রদীপ-মশাল হাতে হাজারো মানুষের আলোর মিছিলে আলোকিত হয়ে ওঠে এতোদিন অন্ধকারে ঢাকা পড়া জনপদ।
রাত ১২টা ১মিনিট বাজতেই আনন্দ আর উল্লাসে ফেটে পড়ে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও নীলফামারীর ১১১টি ছিটমহলের বাসিন্দারা।
বাংলাদেশ ও ভারতের মানচিত্র থেকে মুছে গেলো ছিটমহল নামের ৬৮ বছরের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর এক অধ্যায়। সমাপ্তি হলে এক ইতিহাসের। পরিচয় খুঁজে পেলে ছিটমহলের বাসিন্দারা।
৬৮টি মোমবাতি জ্বালিয়ে ৬৮ বছরের বঞ্চিত জীবনের প্রতীকী অবসান ঘটান ছিটবাসী। আতশবাজীর সঙ্গে ওড়ানো ফানুসও।
মৌলিক অধিকার বঞ্চিত, একরকম বন্দী জীবন থেকে মুক্তির অভিব্যক্তি সবার চোখেমুখে। ছিটবাসীর এই উৎসবে শামিল হন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম কর্মীরা।
ছিটমহল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামের ১২টি, লালমনিরহাট ৫৯টি, পঞ্চগড়ের ৩৬টি ও নীলফামারীর ৪টিসহ মোট ১১১টি ছিটমহলের ৪১ হাজার ৪৪৯ জন বাসিন্দা পেলেন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব।