টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বেশ কিছু জেলায় আবারো বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। যমুনা, তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, আবাদি জমি তলিয়ে গিয়ে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ৩ উপজেলার পাহাড়ি এলাকার ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে বাড়ি-ঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, মৎসখামার ও আবাদি জমি তলিয়ে এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ধুনট ও সারিয়াকান্দি পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৩ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে দুই উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে বাধের ভেতর ৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
জামালপুরে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ইসলামপুর উপজেলার ৩ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এদিকে, লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৫ সে.মি. ধরলা নদীর পানি নুন খাওয়া ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৩ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার ৮৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় এখনো কোনো ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছেনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদ ও ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত নানা রোগ।