উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা, যমুনাসহ বেশ কিছু নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বেড়ে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জেলার ৫৫টি ইউনিয়নের আড়াইশ গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দেড় লাখ মানুষ। গ্রামাঞ্চলের কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ৪৫ হাজার হেক্টর জমির আমন ফসল তলিয়ে গেছে পানিতে ।
দুর্গত এলাকায় ত্রাণ না পৌঁছায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গবাদি পশুর খাদ্য সঙ্কট।
এদিকে, নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মিরপুরে বেড়িবাঁধের ১০০ ফুট পর্যন্ত ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। মির্জাপুর, কাশিয়াবাড়ী ও হাটাকালুপাড়া এলাকায় সড়ক ভেঙে যাওয়ায় আত্রাই উপজেলার যোগাযোগ ভেঙে পড়েছে। উপজেলার শাহাগোলা, ভোপাড়া, মুনিয়ারীসহ ৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে তিন লক্ষাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে ৫ হাজার হেক্টর জমির আমন ফসল।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে জামালপুরে যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যায় ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
এদিকে, লালমনিরহাট, বগুড়া ও শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনো পানিবন্দি কয়েক হাজার পরিবার। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট।