গত কয়েকদিন ধরে পাহাড়ি ঢল আর ভারি বর্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা, যমুনাসহ বেশ কিছু নদীর পানি আজও বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধ্যাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৫ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে ধরলা, তিস্তা ও বহ্মপূত্র নদের পানি বেড়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলার ৫৫টি ইউনিয়নের প্রায় পৌনে ২ লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে তারা গবাদী পশু নিয়ে সড়কে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধে আশ্রয় নিয়েছে।
গাইবান্ধ্যায় নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ২৯ টি ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার কারণে জেলার ৪টি ইউনিয়নের ৫৫টি স্কুল বন্ধ রয়েছে।
জামালপুরে পাহাড়ি ঢলে যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনা তীরবর্তী প্রায় ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকটে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ।
তীব্র পানির স্রোতে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মিরপুরে বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
এরইমধ্যে উপজেলার ২৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছ র্কতৃপক্ষ। উঁচু স্থান, বাধ, সড়ক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদে আশ্রয় নিয়েছে অনেকে। প্রায় ৫৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে তিন লক্ষাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে ৫ হাজার হেক্টর জমির আমন ফসল।
এছাড়া লালমনিরহাট, বগুড়া ও শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনো পানিবন্দি রয়েছে লক্ষাধিক পরিবার।