গত দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সোমবার দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আবারো অবনতি হয়েছে।
ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা, সুরমা, পদ্মা, মেঘনাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ভোলা,সুনামগঞ্জ, মন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
গত কয়েক দিনের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দুদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নদ-নদীর পানি আবারো বেড়ে গেছে।
কুড়িগ্রামে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ১৭ সেন্টিমমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার নিম্নাঞ্চল ও দ্বীপচরগুলো নতুন করে প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। বাঁধ এবং পাকা সড়কে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলো খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে।
লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারেজের সবকটি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। সদর উপজেলাসহ উজানে থাকা হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, অদিতমারী, ডিমলা, জলঢাকা উপজেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ।
সুনামগঞ্জের সুরমা, যাদুকাটা ও খাসিয়া নদী এবং হাওড়গুলোর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে জেলা সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজারসহ অন্যান্য উপজেলার ৫০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মেঘনার জোয়ারের পানি ঢুকে ভোলার ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়নে কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার।
এদিকে, পদ্মার পানি কমতে শুরু করলেও মন্সীগঞ্জে এখনো পানিবন্দি রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। তীব্র স্রোতে টঙ্গীবাড়ী ও লোহজং উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। এখনো হুমকীতে রয়েছে কন্সট্রাকসন ইয়ার্ডসহ পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও স্থাপনা।