টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন জায়গা নতুন করে বন্যা কবলিত হয়েছে। এদিকে, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, মেঘনাসহ দেশের অন্যান্য নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ভোলা, রংপৃউর, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপূত্র ও তিস্তাসহ সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে জেলার ৫ শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দি হয়েছে ৫ লাখ মানুষ।
লালমনিরহাটের নুনখাওয়া পয়েন্টে ধরলার পানি এখন বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপরে। প্লাবিত হয়েছে সদর উপজেলা, হাতীবান্ধা, কালিগঞ্জ ও অদিতমারীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল।
ভোলায় মেঘনার পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমাটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। ঘর-বাড়ি ছেড়ে পাকা সড়ক ও বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে মানুষ। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ায় ৭৫টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এদিকে, অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে তিস্তা, ঘাঘটসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বেড়ে বন্যায় প্লাবিত হয়েছে রংপুরের নিম্নাঞ্চল। গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা উপজেলার ৩০টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।
জামালপুরের বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনার পানি। এতে আবারো প্লাবিত হয়েছে ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জের ৮ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল।
সিলেটে সুরমা, কুশিয়ারাসহ সবকটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গোয়াইনহাট, বালাগঞ্জের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ।
এছাড়াও সুনামগঞ্জের সুরমা নদী, যাদুকাটা ও খাসিয়ামারা নদীসহ হাওরের পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বিচ্ছিন্ন রয়েছে তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর সড়ক যোগাযোগ। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট।
মুন্সীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পদ্মার পানি ভাগ্যকূল পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। এখনো পানিবন্দি রয়েছে তিনটি উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার।