লোকসানের বোঝা টানতে টানতে এক সময় বন্ধ হতে যাওয়া খুলনার ‘খুলনা শিপইর্য়াড’ এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দেশে প্রথম যুদ্ধের জাহাজ তৈরির সুনামও অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। উন্নতির এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি এবার দুইটি লার্জ পেট্রোল ক্রাফট বা বড় যুদ্ধ জাহাজ তৈরি করতে যাচ্ছে।
আগামীকাল- রোববার খুলনায় এ যুদ্ধ জাহাজ তৈরির কাজের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
১৯৫৪ সালে রূপসা নদীর তীর ঘেষে প্রায় ৬৯ একর জমিতে গড়ে তোলা হয় দেশের বৃহৎ জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান "খুলনা শিপইর্য়াড"। বছরের পর বছর লোকসান গুণতে থাকায় ১৯৯০ সালে সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে রুগ্ন শিল্প হিসেবে ঘোষণা করে। পরে ১৯৯৯ সালের ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থা-বিএসইসি থেকে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। ২০১৩ সালে ৫টি ছোট যুদ্ধ জাহাজ তৈরির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে জাহাজ শিল্পের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে এ শিপইয়ার্ড। এর ধারবাহিকতায় এবার শিপইয়ার্ডটিতে তৈরি হবে বড় দুইটি যুদ্ধ জাহাজ।
খুলনা শিপইয়ার্ড ব্যবস্থপনা পরিচালক ইরশাদ আহমেদ বলেন, রোববার এ জাহাজ তৈরির কাজের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এতে, ৭০ জন নাবিক নিয়ে সমুদ্রপথে ঘণ্টায় ২৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম হবে এ জাহাজগুলো— এতে থাকবে স্বয়ংক্রিয় মিজাইলসহ অত্যাধুনিকসব অস্ত্র— যা সনাক্ত করতে পারবে শত্রু পক্ষের সাবমেরিন বলে জানান তিনি।
ইরশাদ আহমেদ বলেন, এ জাহাজ তৈরিতে সময় লাগবে দুই বছর আর এতে প্রযুক্তিগত সহয়াতা দিবে চীনের যুদ্ধ জাহাজ তৈরির বিশেষজ্ঞ দল।
এদিকে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নেয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি।