সমুদ্রসীমায় সম্পদের সুষ্ঠু নিরাপত্তায় নৌবাহিনীকে আরো আধুনিক গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার মংলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দীগরাজ নৌ-ঘাঁটিতে একটি 'অয়েল ফ্লিট ট্যাঙ্কার' কমিশনিং এবং দুটি ল্যান্ডিং ক্রাফ্ট ইউটিলিটি (এলসিইউ) ও দুটি ল্যান্ডিং ক্রাফ্ট ট্যাঙ্কার সংযুক্তকরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে একটি অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, ২০১৬ সালের মাঝামাঝি নৌবাহিনীতে দুটি সাবমেরিন যুক্ত হবে।’
এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশে নির্মিত প্রথম অয়েল ফ্লিট ট্যাঙ্কার খানজাহান আলী এবং এলসিইউ জাহাজ সন্দ্বীপ ও হাতিয়া এবং দুটি ল্যান্ডিং ক্রাফ্ট ট্যাঙ্কার- এলসিটি-১০৩ ও এলসিটি-১০৫ যথাক্রমে নৌবাহিনীতে কমিশনিং ও সংযুক্ত হয়। খবর বাসসের
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দুটি সাবমেরিন যুক্ত করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে সাবমেরিন দুটি নৌবাহিনীতে সংযুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ।'
তিনি জানান, সাবমেরিনের জন্য ঘাঁটি ও অন্যান্য অবমাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে খুলনা নদী অঞ্চলে পূর্ণাঙ্গ নৌবহর কার্যক্রম চালুর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মংলা নৌ-ঘাঁটিতে পৌঁছলে বিমানবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল ফরিদ হাবিব এবং খুলনা নৌ-অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার তাকে স্বাগত জানান।
নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড-অব-অনার জানায়। তিনি গার্ড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।
এ সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঐতিহ্য অনুসারে 'শীপ বেল' বেজে উঠে এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়।
শেখ হাসিনা চেইন অব কমান্ড ও পেশাগত দক্ষতা বজায় রাখার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা-নাবিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, কর্মকর্তা ও নাবিকগণ পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে উন্নততর কর্মদক্ষতা, শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মর্যাদা সব সময় সমুন্নত রাখবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা সবার প্রত্যাশা যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী শান্তি প্রতিষ্ঠায় দেশের পাশাপাশি বিশ্বের যেকোন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে শেখ হাসিনা বলেন, এই মহান নেতা স্বাধীনতার পরপরই দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষায় শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠনে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে দেশের সমুদ্রসীমা ও এর সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার আগেই এই সত্য অনুধাবন করে তার ঐতিহাসিক ৬-দফা আন্দোলনে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর সদর দফতর পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠার দাবি করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ছোট্ট এই নৌবাহিনী বঙ্গবন্ধুর সুদূরপ্রসারী চিন্তা-ভাবনার বাস্তবায়নে মাত্র দুটি পেট্রোল ক্রাফ্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করে আজ মর্যাদাপূর্ণ ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত হতে চলছে।
দেশ টিভির প্রতিবেদন:
লোকসানের বোঝা টানতে টানতে এক সময় বন্ধ হতে যাওয়া ‘খুলনা শিপইর্য়াড’ এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এরইমধ্যে দেশে প্রথম যুদ্ধ জাহাজ তৈরির সুনামও অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। উন্নতির এ ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি এবার ২টি লার্জ পেট্রল ক্রাফট বা বড় যুদ্ধ জাহাজ তৈরি করতে যাচ্ছে।
১৯৫৪ সালে রূপসা নদীর তীর ঘেষে প্রায় ৬৯ একর জমিতে গড়ে তোলা হয় দেশের বৃহৎ জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান "খুলনা শিপইর্য়াড"। বছরের পর বছর লোকসান গুণতে থাকায় ১৯৯০ সালে সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে রুগ্ন শিল্প হিসেবে ঘোষণা করে।
পরে ১৯৯৯ সালের ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থা-বিএসইসি থেকে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। ২০১৩ সালে ৫টি ছোট যুদ্ধ জাহাজ তৈরির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে জাহাজ শিল্পের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে এ শিপইয়ার্ড। এর ধারবাহিকতায় এবার শিপইয়ার্ডটিতে তৈরি হবে বড় দুইটি যুদ্ধ জাহাজ।
খুলনা শিপইয়ার্ড ব্যবস্থপনা পরিচালক ইরশাদ আহমেদ বলেন, রোববার এ জাহাজ তৈরির কাজের শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এতে, ৭০ জন নাবিক নিয়ে সমুদ্রপথে ঘণ্টায় ২৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম হবে এ জাহাজগুলো— এতে থাকবে স্বয়ংক্রিয় মিজাইলসহ অত্যাধুনিকসব অস্ত্র— যা সনাক্ত করতে পারবে শত্রু পক্ষের সাবমেরিন বলে জানান তিনি।
ইরশাদ আহমেদ বলেন, এ জাহাজ তৈরিতে সময় লাগবে দুই বছর আর এতে প্রযুক্তিগত সহয়াতা দিবে চীনের যুদ্ধ জাহাজ তৈরির বিশেষজ্ঞ দল।
এদিকে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নেয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি।