নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নওগাঁ, মুন্সীগঞ্জসহ বেশ কিছু জেলায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন। দুর্গত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, তিস্তার অব্যাহত ভাঙ্গনে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ৫টি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত পাঁচ দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে কয়েকশ ঘর-বাড়ি ও ফসলীজমি। হুমকীর মুখে রয়েছে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ,বাজারসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ঘর-বাড়ি, ফসলী জমিসহ স্বর্বস্ব হারিয়ে অসহায় অবস্থায় খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাচ্ছে ভাঙ্গন কবলিত মানুষেরা।
মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকূল পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে আছে জেলার কয়েক হাজার পরিবার। তীব্র স্রোতের কারণে এখনো নদীভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে জেলার লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলার হাজারো পরিবার।
কুড়িগ্রামের চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ও ধরলার সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার আরো শতাধিক গ্রাম। গত দুই সপ্তাহের টানা বন্যায় পানিবন্দি রয়েছে জেলার ৬৬টি ইউনিয়নের ৬ লাখ মানুষ।
আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নওগাঁয় প্লাবিত হয়েছে আত্রাই ও রানীনগর উপজেলার শতাধিক গ্রাম। বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে কাঁচা ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলী জমি। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে জেলা শহরের সঙ্গে আত্রাই উপজেলাসহ নাটোরের যোগাযোগ ব্যাবস্থা।
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে, প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করায় সদর উপজেলা, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়িসহ ৭ উপজেলার ৪১৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে আছে লক্ষাধিক পরিবার।