নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কুড়িগ্রাম, শেরপুর, গাইবান্ধা, নওগাঁ, মুন্সীগঞ্জসহ বেশ কিছু জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
পদ্মা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, মধুমতিসহ অন্যান্য নদীর ভাঙনে ভোলা, শেরপুর, নড়াইল ও মুন্সীগঞ্জে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এতে চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন দুর্গত এলাকার মানুষেরা।
কুড়িগ্রামে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির প্রবল স্রোতে রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের তুড়া সড়ক ও বন্দবের ইউনিয়নের রৌমারী-দাতভাঙ্গা সড়ক ভেঙ্গে নতুন করে ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নৌকা, বাঁধ,উচু সড়ক ও ঘরের চালে আশ্রয় নিয়েছেন বানভাসী মানুষ। ১৮ দিন ধরে পানিবন্দি থাকায় দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
উজান থেকে আসা পানির ঢলে শেরপুরে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের চর পক্ষীমারী, চরমোচারিয়া, বেতমারী, ঘুঘুরকান্দিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্লাবিত হয়েছে শতাধিক গ্রাম। অব্যাহত নদী ভাঙনে এরইমধ্যে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে ঘর-বাড়ি,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরত্বপূর্ণ স্থাপনা।
মেঘনার গতিপথ পরিবর্তন ও পানির ঘূর্ণি সৃষ্টি হয়ে ভোলার ইলিশা পয়েন্টে তীব্র ভাঙন চলছে। এরইমধ্যে সাত শতাধিক ঘর-বাড়ি, দোকানপাট, ২টি মৎস আড়ৎসহ দুটি বাজার হারিয়ে গেছে নদীগর্ভে। সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে বেড়িবাঁধের ওপর।
মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকূল পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে আছে জেলার কয়েক হাজার পরিবার। তীব্র স্রোতের কারণে লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় এখনো ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে।
আড়িয়াল খাঁ নদের অব্যাহত ভাঙ্গনে মাদারীপুরে ঢাকা-খুলনা-বরিশাল মহাসড়কে হাজী শরীয়ত উল্লাহ সেতু সংলগ্ন এলাকায় চারশ মিটার বাধ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়ি। ভাঙন প্রতিরোধে বাশ ও গাছ দিয়ে বেড়া এবং জিও ব্যাগ দিয়ে বাধ দিলেও স্রোতের তোড়ে তা ভেসে যাচ্ছে।
নওগাঁয় আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে আত্রাই ও রানীনগর উপজেলার শতাধিক গ্রাম। বাধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে কাঁচা ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলী জমি।