চিকিৎসকের প্রতারণায় কিডনি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন নারায়ণগঞ্জে আতাউর রহমান মানে এক বৃদ্ধ। আইনের আশ্রয় নিয়ে হুমকি ও হামলার শিকার হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বৃদ্ধ ও তার পরিবার। এ ঘটনায় সিভিল সার্জনের নির্দেশে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পেটের বথ্যার কারণে নারায়ণগঞ্জের দিনমজুর আতাউর রহমান ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে নগরীর দোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাকে সেখানে নিয়ে যান স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক রাসেল মানের একজন। ৫৩ হাজার টাকা পরিশোধের শর্তে আতাউরের পেটে অপারেশন করা হয় সেখান। সপ্তাহ খানেক পর নিয়মিত ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।
ওষুধ সেবনের পরও অবস্থার উন্নতি না এক বছর পর আতাউর গত আগস্টে আবারো ডা. মনজুরের কাছে যান। ডা. মনজুর প্রথমে চিকিৎসার বিষয়টি এড়িয়ে অপারেশনের বকেয়া ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। তার এমন আচরণে আতাউর অন্য একটি হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষ করলে দেখা যায় তার বাম পাশের কিডনিটি নেই।
আতাউর ও তার পরিবারের অভিযোগ, দোলা জেনারেল হাসপাতালে অপারেশনের নামে তার কিডনি সরানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে আতাউরের ছেলে বাদী হয়ে ১২ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় কিডনি অপসারণের অভিযোগ ও ২৯ আগস্ট ফতুল্লা মডেল থানায় নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
এরপর থেকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক রাসেলের হুমকি ও হামলার শিকার হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে আতাউর ও তার পরিবারের সদস্যরা বলে জানান তিনি।
জেলা সিভিল সার্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান ।
তিনি আরো বলেন, পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেলে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
তবে কিডনি অপসারণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. মনজুর।