যেসব জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতা-কর্মীরা অপকর্ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত শিগগিরই তাদের তালিকা করা হচ্ছে বলে জনিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
রোববার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনীর ধুমঘাট সেতু পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে তবে কিছু কিছু জনপ্রতিনিধি পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ, সুইপার নিয়োগ, স্কুলের নৈশপ্রহরীর চাকরি দিয়েও টাকা আদায় করছেন। টিআর-কাবিখাতে ভুয়া নাম দিয়ে অর্থ লুটপাট করছেন। দলীয় অন্তর্কোন্দলে খুনোখুনিতে জড়িয়ে পড়ছেন, নিরীহ নারীকে ধর্ষণ করা হচ্ছে।
সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে মাঠপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্জনকে সেসব জনপ্রতিনিধি ও নেতা-কর্মীরা ম্লান করছে, তাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। তাদের কাউকে প্রধানমন্ত্রী ছাড় দেবেন না। আগামী নির্বাচনে এসব জনপ্রতিনিধি দলীয় মনোনয়ন পাবেন না বলে জানান তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চার লেন প্রকল্প কাজের ১৪৩ কিলোমিটার সড়ক, ২৩টি ব্রিজের মধ্যে ২০টি এবং তিনটি ওভারপাসের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে দেশি-বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকার ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চার লেন চালু করবে বলে দেশ ও জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ— এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে দেশি-বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে-ই হোক না কেন, তাদের কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, ২১৫.৭ মিটার দৈর্ঘ্যের ধুমঘাট সেতুটি হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সবচেয়ে দীর্ঘতম সেতু। সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪২ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে সেতুর ৭৮ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮৮.৬ মিটার দৈর্ঘ্য মুহুরী সেতুটির ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ হলে সেতু দুটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চার লেন প্রকল্পের পরিচালক ইবনে আলম হাসান, চার লেন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী জয় প্রকাশ গোস্বামী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান প্রমুখ।