ইয়েমেনে রকেট হামলায় নিহত আনছারুল গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গফগাঁওয়ে চলছে শোকের মাতম।
ইয়েমেনের একটি হোটেলে মঙ্গলবার অজ্ঞাত হামলাকারীদের রকেট হামলায় প্রবাসী বাংলাদেশি আনছারুল হকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নিহতের পরিবার।
আনছারুলর বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার মহির খারুয়া গ্রামে।
নিহতের পরিবার পরিজন সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে চাকরির উদ্দেশ্য দুবাই যান আনছারুল। গত চার মাস আগে ইয়েমেনে যান চাকরি নিয়ে। দুবাইয়ের যে কোম্পানিতে সে কাজ করত সেই কোম্পনিই তাকে তাকে ইথোওপিয়া পাঠিয়ে দেয়, সেখানে তিন মাস থাকার পর আবার তাকে ইয়েমেনে পাঠিয়ে দেয়। তার সঙ্গে সেখানে বেশ কয়েকজন বাঙালিও কাজ করত।
তারা জানান, আনছারুল বলত তারা আরবীয় একটা সেনা টিমের সাথে কাজ করে, তাদের দিয়ে টাবু টানানো সহ মালামাল উঠানো নামানো করা হতো। তাদেরকে আলাদা খাবার দিত আবার মাঝে মাঝে সেনাদের বাড়তি খাবার খেতে দিত।
প্রবাসী আনছারুলের বড় ভাই কাঞ্চন মিয়া জানান, গতকাল-বুধবার রাত আনুমানিক ১১টায় দুবাই থেকে আনছারুলের বন্ধু সোহেল (দুবাইয়ে একসাথে ছিল) ফোন করে জানান আনছারুল মারা গেছেন।
সোহেল জানায়, ইয়েমেন থেকে তাকে ফোন করে জানিয়েছে আনছারুলের সাথে থাকা বাঙালিরা, যারা আগে সবাই একসাথে দুবাইয়ে কাজ করত।
সোহেল ইয়েমেনে অবস্থানরত বেঁচে যাওয়া বাঙালিদের বরাত দিয়ে জানান, তারা জানিয়েছেন মঙ্গলবার ইয়েমেনে এক হোটেলে বোমা ও রকেট হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসিরা এতে হোটেলে অবস্থানরত বেশকিছু লোক মারা গেছে তাদের মধ্যে আনছারুলও রয়েছেন।
হামলার সময় যারা হোটেলের বাহিরে ছিল সবাই সুস্থ আছে বলে জানান তিনি। কিছু সেনা সদস্যের মৃত্যুর খবরও জানিয়েছে তারা।
এদিকে, আনছারুলের মৃত্যু সংবাদে কান্না থামছে না স্ত্রী সন্তানের, বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার।
আনছারুলের মরদেহ ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন জানিয়েছেন আনছারুল হকের বড় ভাই কাঞ্চন মিয়া।
সাত ভাই ও এক বোনের মধ্যে আনছারুল হক সবার ছোট। স্ত্রী সন্তানের মুখে দু মুঠো খাবার তুলে দিতে একটু সুখের আশায় ২০১১ সালে ধার দেনা করে দুবাই পাড়ি জমান আনছারুল হক। দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে কোনো মতে দিন কাটছিল আনছারুল হকের, বড় মেয়ে ঐশী ৮ম শ্রেণী ও ছোট মেয়ে শশী ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে লেখাপড়া করে।
ভাগ্য আর সুখের সন্ধান দিতে পারেনি তাকে। স্ত্রী সন্তান আর আত্মীয় স্বজনকে বহুদূরে রেখেই সন্ত্রাসীদের রকেট হামলায় প্রাণ হারান রুটি রুজির আশায় ইয়েমেনে পাড়ি জমানো হতভাগ্য আনছারুল।