হাতের মেহেদির রং মুছে যাবার আগেই স্বামীর নির্যাতনের শিকার তাসলিমা নামের এক নববধু। সোমবার সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে যৌতুক না পেয়ে বিয়ের ৪ দিনের মাথায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন করে তাকে।
পরে, মঙ্গলবার সকালে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে, এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করেনি পুলিশ।
এদিকে, চিকিৎসক ফয়সাল আহমেদ মুহিন বলেন, তাসলিমার শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তবে, স্থানীয় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান এ ঘটনায় প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
তাসলিমা ভোলাগঞ্জের মাহমুদ আলীর মেয়ে। সতেরো-আঠারো বছরের এই তরুণীর বাবা নেই। মা মানসিক ভারসাম্যহীন। মামার বাড়িতে তার বেড়ে ওঠা। ৬ মাস আগে তার বিয়ে ঠিক হয় একই উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের শহবুদ্দিনের ছেলে আব্দুর রহীমের সঙ্গে। অনেক স্বপ্ন নিয়ে শুক্রবার বিয়ের পিড়িতে বসেছিল তাসলিমা। কিন্তু, সোমবার রাতেই যৌতুকের দাবিতে তার ওপর চলে এ অমানবিক নির্যাতন।
যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল ও ৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল তার স্বামী আবদুর রহিম। তাসলিমা অপরাগতা জানালে স্বামীসহ তার পরিবারের সদস্যরা তাকে বেধড়ক মারধর করে। কেটে দেয়া হয় মাথার চুল।
এ বিষয়ে তাসলিমার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, পুলিশকে তারা এ ঘটনা জানিয়েছেন। তবে, এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন।