আজ ১৫ নভেম্বর, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্মৃতিতে একটি ভয়াল দিন। ২০০৭ সালের এ দিনে প্রলয়ংকরী সিডরের আঘাতে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় সুন্দরবনসহ উপকূলীয় জনপদ। ভয়াল এ ঘূর্ণিঝড়ের ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি ভোলার চন্দ্রপ্রসাদ গ্রামের নিখোঁজ ৯ জেলের। তারা বেঁচে আছেন, না মারা গেছেন, তাও জানে না কেউ। আজও তাদের ফিরে আসার প্রতীক্ষায় স্বজনরা।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, জসিম মাঝির ট্রলার নিয়ে সিডরের কয়েকদিন আগে মাছ ধরতে বঙ্গোপসাগরে গিয়েছিলেন ভোলার চন্দ্রপ্রসাদ গ্রামের বজলু, রুবেল, জসিম, নুরু, সহিদুল, ইব্রাহিম, মামুন, জামাল ও রুবেল নামের নয় জেলে।
তবে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ংকারী আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় সিডর। এতে ট্রলার ডুবে নিখোঁজ হন তারা।
সেদিনের সেই ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ে স্বজন হারানোর কথা আজও ভুলতে পারেনি কেউ। আজও তাদের প্রতীক্ষায় আছেন পরিবারের সদস্যরা। আশা, একদিন ঠিকই ঘরে ফিরবে তাদের স্বামী, সন্তান কিংবা ভাই।
আট বছর পেরিয়ে গেলেও, নিখোঁজদের পরিবার কোনো সরকারি সাহায্য পায়নি বলে অভিযোগ তাদের।
তবে সিডরে নিখোঁজদের স্বজনদের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ভোলা জেলা প্রশাসক মো. সেলিম রেজা।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে এ দিনে সুন্দরবন উপকূলের জেফার্ড পয়েন্টে, প্রচণ্ড বেগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় সিডর। মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড করে দেয় ভোলা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠিসহ দেশের উপকূলীয় এলাকার জনপদ।
সরকারি হিসাবে এ ঝড়ে মারা যান, তিন হাজার সাতশো মানুষ। তবে, বেসরকারি মতে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এতে।