অনেক ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে দেশের উপকূলীয় এলাকাকে রক্ষা করে চলেছে বিশ্বের একমাত্র ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট-সুন্দরবন। তবে এরইমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব দেখা দিয়েছে এ বনাঞ্চলে। ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব পড়ছে ধনী-গরিব সব দেশেই। গরিব দেশগুলো বৈষ্ণিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী না হলেও তাদেরকেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে বাংলাদেশ।
অনিয়মিত বন্যা, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ও খরা কৃষিকে বাধাগ্রস্ত করছে। পানিসম্পদ, জ্বালানি ও নগর উন্নয়নকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। এর প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি সুন্দরবনও।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে বনের পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় এখানকার সুন্দরি গাছ, বাইনের বাগান ও অন্যান্য গাছপালা আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থলজ ও জলজ প্রাণী।
সমুদ্রের পানি স্থলভাগের কাছাকাছি চলে আসায় লোনা পানি ঢুকে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। এতে ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, কমে যাচ্ছে ফসলের উৎপাদন। দিনে দিনে ফসলি জমি কমে যাচ্ছে।
জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালিসহ প্রায় ছয় লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হওয়ার কারণে কৃষি জমি গবাদি পশু, মানুষের জীবনধারন ও বিভিন্ন ভৌত অবকাঠামো হুমকির মুখে রয়েছে।
সামুদ্রিক ঝড়ঝঞ্ঝা থেকে দক্ষিণাঞ্চল রক্ষায় সুন্দরবন প্রাকৃতিক প্রাচীর হয়ে আছে একে বাঁচাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করেন পরিবেশবিদরা।