চট্টগ্রাম কলেজে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের সমাবেশে ছাত্রশিবিরের হামলার ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ চারটি ছাত্রাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।
এছাড়া এ ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চারটি ছাত্রাবাস হলো শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী ও সবুর। এছাড়া ছাত্রীদের একটি হল রয়েছে।
অধ্যক্ষ জেসমিন আক্তার জানান, একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া ছাড়া ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ছাত্রদের আজ-বুধবার রাত ৮টা এবং ছাত্রীদের বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে ছাত্রাবাস ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার পর চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে শিবিরের কর্মীরা। পরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে ৪ জন আহত হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনার পর হল বন্ধের দাবিতে অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করেছে ছাত্রলীগ কর্মীরা।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ক্যাম্পাসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এ সময় শিবিরকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
শিবিরের ধাওয়ায় ছাত্রলীগ কর্মীরা পাশের মহসিন কলেজে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানেও ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে শিবিরকর্মীরা। এতে ৪ জন আহত হয়েছে।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। কলেজ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওসি আজিজ উদ্দিন সাংবাদিকের বলেন, বেলা ১২টার দিকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ক্যাম্পাসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের সময় শিবিরকর্মীরা এ হামলা চালায়।
কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবনে তখন কর্তৃপক্ষের আয়োজনে বিজয় দিবসের আলোচনা সভা চলছিল বলে জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগ নেতাদের বক্তৃতার শেষপর্যায়ে শিবিরকর্মীরা দুটি হাতবোমা ফাটায়। এ সময় হুড়োহুড়ি শুরু হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
কিছুক্ষণ পর সংঘর্ষ থামলেও ছাত্রলীগ কলেজের বাইরের রাস্তায় এবং শিবিরকর্মীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান নিয়ে থাকায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা চলছে বলে স্থানীয়রা জানান।