খুলনার আহসান আহমেদ রোডের একটি বাড়ি থেকে বুধবার বাবা মোড়ল মোস্তফা কামাল (৪৮) ও মেয়ের সুমাইয়া আক্তারের (১৪) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার জিয়াউদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে মোস্তফা কামাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ‘আত্মহত্যার চিঠি’ লেখার পর মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং পরে নিজে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, মেয়ে ও বাবা এক কক্ষে থাকতেন। মেয়েকে সব সময় কাছে কাছে রাখতেন মোস্তফা কামাল। গতকাল রাতে মেয়ে ও বাবা একসঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন। সকালে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরের দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এ সময় তারা মোস্তফা কামালকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। আর পাশেই পড়ে ছিল মেয়ের মরদেহ।
পরে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অফিসের কিছু কাজের ব্যাপারে মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপে ছিলেন মোস্তফা কামাল। এছাড়া বড় মেয়ের শারীরিক অসুস্থতাও তাকে হতাশাগ্রস্ত করে তোলে। এ কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
মেয়েটি ছিল শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী। মোস্তফা কামালের বাড়ি বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার আটটাকা গ্রামে। তিনি খুলনা পরমাণু শক্তি কমিশনে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করতেন এবং আহসান আহমেদ রোডের ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।