মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদসহ ৫ জাসদ নেতার তিন খুনির মৃত্যুদণ্ড ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করা হয়েছে। পরে বৃহস্পতিবার রাতেই মরদেহ কুষ্টিয়ায় নেয়া হয়।
এদের মধ্যে শুক্রবার ভোরে আনোয়ার হোসেনের লাশ কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে, সকাল সোয়া ১০টায় সাফায়েত হোসেন হাবিবের মরদেহ মিরপুর উপজেলার রাজনগর গ্রামে ও রাশেদুল ইসলাম ঝন্টুর মরদেহ চুয়াডাঙ্গার উজিরপুরে সকাল ৮টায় দাফন করা হয়।
আনোয়ার হোসেনের নিজগ্রাম মিরপুর উপজেলার কুর্শায় কোনো আত্মীয়স্বজন না থাকায় তার মরদেহ দাফন করা হয় কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে। সেখানে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়।
কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতেই মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা এক মিনিট। যশোরের কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করা হয় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদসহ ৫ জাসদ নেতা হত্যা মামলার দুই আসামি আনোয়ার হোসেন ও সাফায়েত হোসেন হাবিবের মৃত্যুদণ্ড।
পরে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করা হয় আরেক আসামি রাশেদুল ইসলাম ঝন্টুর মৃত্যুদণ্ড।
জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাত হোসেনসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা উপস্থিতিতে এ ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের আড়িয়া ইউনিয়নের কালিদাসপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাস বিরোধী এক জনসভায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় পতাকার রূপকার কাজী আরেফ আহমেদ একদল সন্ত্রাসীর গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এ সময় নিহত হন কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরাইল হোসেন ও শমসের মন্ডল।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায়ে ২০০৪ সালের ৩০ আগষ্ট কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১০ আসামীর ফাঁসি ও ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়। পরে আসামী পক্ষ আপিল করলে ২০০৮ সালের ৫ আগষ্ট হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন ও যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামীকে খালাস দেয়।
এরপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামী আনোয়ার হোসেন, রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু ও সাফায়েত হোসেন হাবিব লিভ টু আপিল করলে ২০১১ সালের ৭ আগস্ট আদালত তা খারিজ করে দেয়। ২০১৪ সালের ১৯ নভেম্বর রিভিউ পিটিশন খারিজের পর রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষার আবেদনও নাকচ হয়।
তবে এ মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামী মান্নান মোল্লা, জালাল ওরফে বাশার, রওশন আলী, বাকের আলী ও জাহান আলী পলাতক রয়েছেন। এর মধ্যে মান্নান মোল্লা, জাহান ও জালাল ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এদের খুঁজে বের করে সাজা কার্যকরের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি পরিবার ও স্থানীয় জাসদ নেতাদের।