ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যুর জেরে সহপাঠীদের গতকাল দিনভর তাণ্ডবের পর বর্তমানে-বুধবার পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।
সকাল থেকেই শহরে সব ধরনের যানবাহন চলাচল ও দোকান, বিপণী বিতানসহ সব অফিস আদালতে স্বাভাবিকভাবে কাজ চলছে।
গতকালই তাণ্ডবের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গতকালের তাণ্ডবের ঘটনায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সদর থানা পুলিশ ও আখাউড়ায় রেলওয়ে পুলিশ বাদী হয়ে আসামিদের অজ্ঞাত রেখে মামলা দুটি দায়ের করেছে।
এদিকে, মঙ্গলবার মাদ্রাসার শীর্ষ আলেম-উলেমাদের সঙ্গে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহাবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করলে আজকের ডাকা হরতাল প্রত্যাহার করে নেয়। শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে, র্যা ব-পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে বিজিবি।
গতকালের তথ্য:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় ভাঙচুর-সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে মোতায়েন করা হয় বিজিবি। প্রায় ৯ ঘণ্টা পর বিকল্প ব্যবস্থায় ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেল যোগাযোগ শুরু হয়।
সকাল থেকেই র্যা ব-পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিক্ষুব্ধ মাদ্রাসা ছাত্ররা।
আমাদের সংবাদদাতা জানান, সকালে বিক্ষুব্ধ মাদ্রাসা ছাত্ররা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলগেট এলাকায় রেল লাইন উপড়ে ফেলায় ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রায় ৯ ঘণ্টা পর বিকল্প ব্যবস্থায় ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের রেল যোগাযোগ শুরু হয়।
এর আগে বিক্ষুব্ধ মাদ্রাসা ছাত্ররা রেলস্টেশনের অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ বাধা দিলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছোড়ে। শহরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
বুধবার জেলায় সকাল–সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দিয়ে মাইকিং করছে শহরের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা।
এদিকে, দুপুরে শহরের ফকিরাপুল এলাকায় বিক্ষুব্ধ মাদ্রাসা ছাত্ররা একটি পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় খবর সংগ্রহ করতে গেলে দেশ টিভির জেলা সাংবাদিক মাসুক হৃদয়কে বেধড়ক মারধর করে র্যা ব। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সোমবারের তথ্য:
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সোমবার মোবাইলফোন কেনাকে কেন্দ্র করে শহরে ছাত্র ও ব্যবসায়ীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে রাতে পুলিশ তালা ভেঙে মাদ্রাসায় প্রবেশ করে ছাত্রদের ওপর হামলা করে।
এসময় পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত হাফেজ মাসুদুর রহমানকে সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ৪ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি মোতায়ন করা হয়।
নিহত মাদ্রাসার ছাত্রের নাম হাফেজ মাসুদুর রহমান। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনিছিয়া মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।
সদর মডেল থানার সহকারী পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গতকাল বিকেলে শহরের জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার একছাত্র মোবাইলফোন কেনার জন্য জেলা পরিষদ মার্কেটের বিজয় টেলিকমে যান। সেখানে দাম নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে দোকানদার ওই ছাত্রকে চড় মারেন। এ খবর পেয়ে ওই মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক ছাত্র দোকানটিতে ভাঙচুর করে।
নিহতের সহপাঠীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে শুরু হয় সংঘর্ষ।