চলতি মাসের ১১ ও ১২ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রদের তাণ্ডবের ঘটনায় যুবদল নেতাসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে, ভিডিও ফুটেজ দেখে দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা বিএনপি।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মবাড়িয়া আওয়ামী লীগের নেতারা অভিযোগ করেন, রাতভর মাদ্রাসা ছাত্ররা যে নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে সেখানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিরোধ না করে নির্লিপ্ত ছিল।
এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে নেতারা আরো বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ছাত্রদের সঙ্গে বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মীরা কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই তাণ্ডব চালিয়েছে।
পুরো ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে জেলা বিএনপি পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি নেতাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এরইমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রদের তাণ্ডবের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে ও বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাহেদসহ ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার আদালতে হাজির করে পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে, সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ-ব্যবসায়ী সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জানুয়ারি মোবাইল ফোন কেনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা ছাত্রদের সঙ্গে ব্যবসায়ী ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে এক মাদ্রাসা ছাত্র মারা যায়। এর জের ধরে পরদিনও শহরজুড়ে তাণ্ডব চালায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা।