যারা পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করেছে তাদের ক্ষমা নেই— তাদের বিচার এ বাংলার মাটিতে হবে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেটে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এক জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে দেশের উন্নয়ন করে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছি, আমরা চাই শান্তি, তারা (বিএনপি জোট) চায় অশান্তি।
জনসভায় নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, নৌকায় শান্তি দেবে— নৌকা সমৃদ্ধি দেবে, নৌকা উন্নতি দেবে আর নৌকায়ই এ দেশের মুক্তি এনে দেবে।
শেখ হাসিনা জনতাকে বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশের স্বাধীনতা পেয়েছেন। নৌকায় মার্কায় ভোট দিয়েছেন বলেই আজকে দেশের উন্নতি হচ্ছে। আগামী দিনেও নৌকা মার্কাকে কখনো ভুলবেন না। নৌকায় আগামীতে ভোট দেবেন তো। হাত তুলে দেখান। হাত তুলে ওয়াদা করেন। হাত তুলে ওয়াদা করেন যে, নৌকায় ভোট দেবেন।’ এরপর উপস্থিত জনতা হাত তুলে তাকে দেখান।
তবে কোন নির্বাচনের জন্য তিনি ভোট চেয়েছেন তা উল্লেখ করেননি জনসভায়।
চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচন এবার প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে হওয়ার কথা।
এর আগে দুপুরে সিলেট মদন মোহন কলেজের হীরক জয়ন্তী অনুষ্ঠানে বলেন, শিক্ষাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে—সেজন্য বাজেটে শিক্ষা খাতে বেশি বরাদ্দ থাকে এবং অর্থের কোনো অভাব হয় না।
সরকারের পদক্ষেপের কারণে এখন স্বাক্ষরতার হার ৭১ শতাংশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ হার শতভাগ করবো কারণ, শিক্ষা ছাড়া একটি জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সিলেটের মদনমোহন কলেজের হীরক জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহ পরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন তিনি। সকাল ১১টার পরে সিলেট পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইসিটি ভবনসহ কয়েকটি ভবন ও স্থাপনার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সিলেট আউটার স্টেডিয়ামসহ বেশকয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের।
পরে, আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। সন্ধ্যায় ঢাকা ফিরবেন শেখ হাসিনা।