পদ্মায় ভেসে উঠেছে ৪৪ বছর পর স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের সময় মিত্র বাহিনীর বোমার আঘাতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ভেঙে যাওয়া স্প্যানের অংশ বিশেষ। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী এলাকায় লোহার বিশাল খণ্ড ভেসে উঠেছে।
রেল কর্তৃপক্ষ ঐতিহাসিক এ ঘটনার সাক্ষী ব্রিজের ভেঙে যাওয়া অংশটি সংরক্ষণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, কিছুদিন আগে পদ্মার লক্ষ্মীকুণ্ডা প্রান্তে নদীতে মাছ ধরার সময় জেলেদের জাল পানির নিচে আটকে যায়। কয়েকজন জেলে পানি থেকে জাল ছাড়াতে গিয়ে প্রকাণ্ড একটি বস্তুর সন্ধান পান। নদীতে পানি শুকিয়ে এলে সেখানে বড় আকৃতির একটি লৌহখণ্ড দেখতে পাওয়া যায়। গত চার-পাঁচ দিন থেকে নদীতে লোহার আরও দুটি অংশ দেখতে পান জেলেরা। ধারণা করা হচ্ছে, এটি হার্ডিঞ্জ ব্রিজের স্প্যানের অংশ।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজের শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও মুক্তিযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনীর বোমা নিক্ষেপের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যাতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ব্যবহার করে নদীর এপারে এসে হামলা করতে না পারে সেজন্য ভারতীয় মিত্র বাহিনী ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর ব্রিজে বোমা নিক্ষেপ করে। এতে ব্রিজের ১২ নম্বর স্প্যানটি ভেঙে পদ্মা নদীতে বিলীন হয়।
বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ভারত সরকার ব্রিজ সংস্কারে রাষ্ট্রীয়ভাবে সহায়তা করে। তবে ব্রিজের ভেঙে পড়া স্প্যানটির কোনো খোঁজ না পেয়ে ১৯৭৫ সালে নতুন করে সেটি প্রতিস্থাপন করা হয়। ওই বছরের ৫ আগস্ট হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দিয়ে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা রেলওয়ের সেতু প্রকৌশল অধিদপ্তরের পাকশী বিভাগীয় ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্থ হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ভেঙে পড়া সেই স্প্যানের কিছু অংশ ১৯৭২ সালে একবার পদ্মায় ভেসে উঠেছিল, সেসময় পানির গভীরতা বেশি থাকায় কিছু অংশ উদ্ধার করা গেলেও বেশিরভাগ অংশই নদীতে রয়ে যায়।
আরিফুল ইসলাম আরো বলেন, ২/৩ দিন আগে আবারো সেই স্প্যানের বাকি অংশ ভেসে ওঠার খবর শুনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সরেজমিন ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য রেলওয়ের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে।
বিভাগীয় আদেশ পেলেই পদ্মা নদী থেকে ব্রিজের ভেঙে পড়া ওই অংশ উদ্ধারের কাজ শুরু করা হবে বলেও জানান ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার।