গাজীপুরের পূবাইলে কারখানার বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় রোববার আবদুল কাদের (৬০) নামে দগ্ধ আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬ জনে। আহত হয়েছেন ১০ জন। ওই কারখানায় টায়ার থেকে তেল তৈরি করা হয়।
আবদুল কাদের টঙ্গীর বনমালা এলাকার ফয়জুদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে।
গতকাল বিকেলে অপর নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিন জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন স্থানীয় বারইবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিদ্দিকা জেবুন্নেসা (৪০), গাজীপুরের বসুগাঁও এলাকার আবদুল মান্নানের ছেলে ও কারখানার নিরাপত্তাকর্মী সেলিম মোল্লা (৪০) এবং মাদারীপুরের বাঘারিয়া এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে কারখানার কর্মী কাওসার হোসেন (৪২)। অন্য দুজনের চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তারাও ওই কারখানার শ্রমিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবদুস সালাম জানান, আবদুল কাদেরের শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়। রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।
আবদুল কাদেরের ছেলে মো. বাহার উদ্দিন জানান, আজ রাত ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা মারা যান। তিনি ওই কারখানার পাইকারি বিক্রেতা ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পূবাইলে বেশ কিছুদিন আগে স্মার্ট মেটাল অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ নামের ওই কারখানাটি গড়ে উঠে। সেখানে পুরোনো টায়ার প্রক্রিয়াজাত করে তেল তৈরি করা হতো। কারখানায় গতকাল ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। এ সময় কারখানার ফটকের পাশে থাকা বয়লার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে আগুনও লেগে যায়। তখন পাশে একটি ট্যাংকলরিতেও বিস্ফোরণ ঘটে। এতে টিনশেডের ওই কারখানা চালাসহ ধসে পড়ে। আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে গাজীপুর ও টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বয়লার বিস্ফোরণ ও আগুনে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই পাঁচ জন নিহত হন। এদের মধ্যে স্কুলশিক্ষিকা সিদ্দিকা জেবুন্নেসা ওই সময় অটোরিকশায় করে কারখানার পার্শ্ববর্তী জয়দেবপুর-পূবাইল সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। অটোরিকশার চালক মো. স্বাধীনসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।
কারখানাটি করার সময় পরিবেশগত কোনো ছাড়পত্র নেয়া হয়নি।