পাহাড়-নদী বেষ্টিত চট্টগ্রামে অনেক পর্যটন স্থানের মধ্যে বৌদ্ধ স্থাপত্যগুলো পর্যটকদের কাছে বিশেষ জায়গা তৈরি করেছে। পার্ক বা অন্যান্য বিনোদন জায়গার সঙ্গে এখন অনেকেই বেড়াতে যান বৌদ্ধবিহারগুলোতেও।
ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি এ স্থানগুলোতে রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। তাই পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।
দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় চট্টগ্রামে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সংখ্যা অনেক বেশি। সে হিসেবে বৌদ্ধ বিহারের সংখ্যাও অনেক। প্রাচীণ এ সব বৌদ্ধ বিহার হয়ে উঠছে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন।
চট্টগ্রামের অনেক বৌদ্ধ বিহার এখন আর শুধু ধর্মীয় উপসানালয় নয়, পর্যটন কেন্দ্রও। তারই একটি রাউজানের মহামুনি বৌদ্ধ বিহার।
১৮০৫ কিংবা ১৮১৩ সালে রাউজানের চাইঙ্গাঠাকুর নামের এক বৌদ্ধ তৎকালীন বার্মা থেকে ‘মহামুনি’ নামের একটি বৌদ্ধমূর্তি এই এলাকায় স্থাপন করেন। এরপর থেকেই এলাকাটি পরিচিত পায় ‘মহামুনি’ নামে।
২০০৮ সাল থেকে এই মহামুনি বিহারে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগে। মূর্তিগুলো অবিকল রেখেই চলে সংষ্কার কাজ। মূল মূর্তিছাড়াও বিশাল এলাকাজুড়ে স্থাপন করা হয় ২৮টি মূর্তি।
চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে মহামুনি বৌদ্ধ বিহার। বন্দরনগরী থেকে ৪৫ মিনিট বা এক ঘণ্টা সময়ের মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যাবে এখানে। কোনো এন্ট্রি ফি ছাড়াই রাত ৮টা পর্যন্ত পর্যটকরা ঘুরে দেখতে পারবেন বিহারটি।
পর্যটকরা চাইলে এখানে রাত্রিযাপন করে ঘুরে দেখতে পারবেন আশপাশের আরও কিছু স্থান।
সুরৌম্য-দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ আর ছায়া সুশীতল পরিবেশ মহামুনি বিহারকে করেছে অনন্য। প্রতিদিনই দূর-দুরান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে বেড়াতে আসেন। আসেন বিদেশীরাও।
মহামুনি বৌদ্ধ বিহার সভাপতি লায়ন রূপম কিশোর বড়ুয়া বলেন, বিহারটিকে একটি পরিপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দেয়ার কাজ চলছে।
মহামুনি ছাড়াও চট্টগ্রামের পটিয়া, রাউজান, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সব বৌদ্ধবিহার। এরমধ্যে পটিয়ার কর্তলা-বেলখাইন সদ্ধর্মালংকার বিহারটির রয়েছে বিশেষ সৌন্দর্য।
মন্দিরের কারুকাজ আর পাশের পুকুরে স্থাপিত বৌদ্ধমূর্তি যোগ করেছে নতুন মাত্রা। রাতের বেলায় এটাকে দেখায় আরও সুন্দর।