সুন্দরবন দিবস আজ। ‘বিশ্ব ভালবাসা দিবসে সুন্দরবনকে ভালোবাসুন’ শ্লোগান নিয়ে রোববার নানা আয়োজনে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে পালিত হচ্ছে দিবসটি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবসৃষ্ট সমস্যার কারণে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ক্রমেই ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে।
উপকূলের ৫টি জেলার ১৭টি উপজেলার ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন। প্রায় ৭৬৭ প্রজাতির জীব বৈচিত্র্যের সমারোহ এখানে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট সমস্যা, বিশেষ করে বনে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারীরা ধ্বংস করছে বনের বৃক্ষরাজী। একই সঙ্গে চোরা শিকারিদের কারণে বিলুপ্ত হচ্ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ অন্যান্য বন্য প্রাণী।
তাই এই বনকে সুরক্ষা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা।
তবে সুন্দরবন প্রধান নির্বাহী একাডেমির অধ্যক্ষ আনোয়ারুল কাদির বলেন, আমাদের এই ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বনবিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সুন্দরবনে ২৩৪ প্রজাতির বৃক্ষ, ২৮ প্রজাতির ম্যানগ্রোভ রয়েছে। পাখি রয়েছে ৩৫৫ প্রজাতির। এছাড়া, ৪৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৮৭ প্রজাতির সরিসৃপ এবং ১৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে।
সুন্দরবন সংলগ্ন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ এই বনের উপর নির্ভরশীল— উল্লেখ করে বন সংরক্ষক জহির উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, বনের সুরক্ষায় এ বিশাল জনগোষ্ঠির বিকল্প কর্মসস্থানের কথা ভাবছে বন বিভাগ।
আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের যুগোপযোগী করে গড়ে তোলারও চেষ্টা চলছে বলে জানান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: সৈয়দ আলী।