একুশে ফ্রেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে যশোর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ছাত্রলীগের ১০ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
একুশের প্রথম প্রহরে যশোরে শহীদ মিনারে বোমাবাজির ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে।
জেলার পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রোববার দুপুর পর্যন্ত ১০ জনকে বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোতোয়ালি থানার এসআই আসাদুজ্জামান রোববার সকালে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর রাতেই সরকারি এমএম কলেজের আসাদ হলে অভিযান শুরু করে পুলিশ। দুপুর পর্যন্ত সেখান থেকে ১০টি হাতবোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ইয়াবাসহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটকদের মধ্যে আকাশ, বিজয়, মহিদুল ও সুমনের নাম জানা গেছে, যারা এমএম কলেজ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত এবং জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুলের সমর্থক বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
তবে পুলিশ সুপার গ্রেপ্তারদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, তবে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। রাত আড়াইটার দিকে এমএম কলেজে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে আটক করা হয়।
একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে যশোর সরকারি এমএম কলেজস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম ফুল দেন সদর আসনের সংসদ সদস্য নাবিল। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ফুল দেয়ার পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ফুল দিতে যায়। এসময় হট্টগোল শুরু হয় একপর্যায়ে কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। পরে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক জানান, শহীদ মিনারে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ফুল দিতে গেলে সংসদ সদস্যের বিরোধী একটি পক্ষ হট্টগোলের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে নিজেদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় এবং কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। তাদের আটক করা হয়েছে।