একদিকে বিস্তির্ণ সীমাহীন সাগরের মোহময় গর্জন আর অন্যদিকে ঘন সবুজ বনে হাজারো পাখির কলকাকলি। বঙ্গোপসাগরের তীরে এমনই মনোরম সৌন্দর্য বরগুনার তালতলী উপজেলার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে।
বিপুল পর্যটন সম্ভাবনা ১১ হাজার একরের অপরূপ সেই দ্বীপবনে রয়েছে। তবে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আর ভাল মানের হোটেল-মোটেল না থাকায় খুলছে না সেই সম্ভাবনার দুয়ার।
ইকো টুরিজম সুযোগ বৃদ্ধি শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ২০১১ সালে বরগুনার তালাতলী উপজেলার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
প্রকল্পের আওতায় বনে বিভিন্ন প্রাণির জন্য খাচা, কুমির প্রজনন কেন্দ্র, পিকনিক স্পট এবং রেস্টহাউজসহ ১২০০ মিটার ওয়াক ওয়ে নির্মাণ করা হয়। ৮টি হরিণ, ২৫টি শুকর, ২টি মেছো বাঘ বনে অবমুক্ত করা হয়। এছাড়া অবমুক্ত করা হয় ৩টি কুমির।
বনের একদিকে সাগরের তীরে কুয়াকাটার মতই উপভোগ করা যায় সুর্যোদয় আর সুর্যাস্তের দৃশ্য। আর চির সবুজের বনে পাখির কুজনে মুগ্ধ হন দর্শনার্থীরা।
তবে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হওয়ার ক্ষেত্রে এখানকার সবচেয়ে বড় বাধা হল অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা। উপজেলা থেকে বনে আসার রাস্তাটি খারাপ হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হয় পর্যটকদের। সেই সঙ্গে হোটেল মোটেল না থাকায় সূর্যাস্তের আগেই ফিরে যেতে হয় তাদের।
বনের নিরাপত্তায় শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। তবে অপরূপ এ দ্বীপবনে টুরিস্ট পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন প্রয়োজন বলে মনে করছেন জেলার পুলিশ কর্মকর্তারা।