কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গন্ডামারায় পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে নিহত ৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জেলাপ্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কমিশনারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন- মর্তুজা আলী (৫০), আনোয়ার হোসেন ওরফে আংকুর আলী (৪৫) ও জাকির আহমেদ (৩৫), মো. জাকের (৫৫)।
বাঁশখালী থানা সূত্রে জানা গেছে, রাতেই ৩ হাজার থেকে প্রায় তিন হাজার ২০০ জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের পক্ষ থেকে ২টি ও পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ কমপক্ষে ১৯ জন আহত হয়েছেন।
গতকাল (সোমবার) স্থানীয় হাজীপাড়া স্কুল মাঠে সমাবেশকে ঘিরে দুই পক্ষের উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। উত্তেজিত গ্রামবাসী ১৪৪ ধারা ভেঙে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুঁড়লে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এ সময় গ্রামবাসী, আনসার ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) হাবিবুর এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে-বিপক্ষের লোকদের সংঘর্ষ থামাতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা হয়। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় ৩ জন নিহত হন। পরে রাত ১১টার দিকে আরো একজনের মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার লিমিটেড ও চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগে ২ হাজার ৫১০ কোটি ডলার ব্যয়ে কয়লভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন চুক্তি করে। এরপর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ ভবনে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থাপনের জন্য গন্ডামারা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমি কেনা হয়েছে। এই প্রকল্পের ৭০ শতাংশের মালিকানা থাকবে এস আলম গ্রুপের ছয়টি প্রতিষ্ঠান। অবশিষ্ট ৩০ শতাংশের মধ্যে সেপকো ২০ শতাংশ এবং চীনের অপর একটি প্রতিষ্ঠান এইচটিজি ১০ শতাংশের মালিক হবে। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর কেন্দ্রটিতে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।