অপরাধীর অপরাধ প্রবণতা সংশোধন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা কারাকর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে নবনির্মিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধন করে এ কথা বলেন তিনি।
কারাগারগুলো সংশোধানাগারের কাজ করবে— এর ভিতরে উৎপাদনমুখী কাজে অংশ নিয়ে কয়েদিরা আয় করতে পারবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আয় পরবর্তীতে ব্যবসায়ের মূলধন হিসেবে কাজে লাগাতে পারবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে এক শ্রেণীর মানুষ সবসময় সরকারকে বাধা দেয় বলেও এসময় মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময়, নানা কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারাবন্দিদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মজীবী হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলেও মন্তব্য করেন করেন তিনি।
এর আগে কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, নতুন কারাগারে কয়েদিদের নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কারারক্ষীর সংকট থাকলেও কয়েদিদের আবাসন বিবেচনায় দ্রুতই কারাগার স্থানান্তরের করা হবে।
যেকোনো ফাঁসির রায় কার্যকরের জন্য এ কারাগার প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
মহাপরিদর্শক বলেন, ইতোমধ্যে ভবনের ৮৯ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে প্রিজন ভ্যানে করে কারাবন্দিদের স্থানান্তর করা হবে। তবে আবাসস্থলের নির্মাণকাজ অসমাপ্ত থাকায় নারী কয়েদিদের নিয়ে যাওয়া হবে কাশিমপুর কারাগারে। চলতি মাসে যুদ্ধাপরাধীসহ কোনো ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হলে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত রয়েছে। কারাগারের ভেতরে যেন মাদক প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে স্ক্যানার বসানো হবে বলেও জানান তিনি।
কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া ইউনিয়নের বাঘৈর এলাকায় একশ ৯৪ দশমিক ৪১ একর জমির ওপর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্মাণকাজ করা হয়। এ কারাগারের পুরুষ কয়েদির ধারন ক্ষমতা চার হাজার পাঁচশ নব্বই জন। ২৭০ জন বন্দি ধারণ ক্ষমতার নারী কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্মাণকাজ চলছে। এছারা, পুরুষ কারাগার-১ এর সম ধারণ ক্ষমতার পুরুষ কারাগার-২ নির্মাণ করা হবে।
কারাগারে রয়েছে বিচারাধীন বন্দি ওয়ার্ড, সাজাপ্রাপ্ত বন্দি ওয়ার্ড, বিপজ্জনক বন্দি সেল, কিশোরবন্দি ভবন, মানসিক ভারসাম্য বন্দি ওয়ার্ড, শ্রেণীপ্রাপ্ত বন্দি ভবন, একই সঙ্গে ফাঁসি কার্যকরের জন্য একটি ফাঁসির মঞ্চ, জেল স্কুল, কারারক্ষী ব্যারাক, সাক্ষাৎকার ভবন, অবজারভেশন টাওয়ার ও মসজিদ।
আর পুরান ঢাকায় অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙে সেখানে বিনোদন কেন্দ্র, খেলার মাঠ, অডিটরিয়াম, কারা জাদুঘর ইত্যাদি নির্মাণ করা হবে।