নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার দুই বছর পূর্ণ হলো আজ (বুধবার)—তবে আলোচিত এ মামলার বিচারকাজ ধীর গতিতে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ২০১৪ সালের এ দিনে নারায়ণগঞ্জের ফুতুল্লা থেকে সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সকরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের মরদেহ ভেসে উঠে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি পলাতক নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর বিচার চলছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ আসমিপক্ষের দেয়া নানা হুমকির কারণে মামলার বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এবছরই মামলার বিচার সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিনের।
গত ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতালক্ষ্যা নদী থেকে ছয় জনের ও ১ মে বাকি একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫-৬ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি। এ ঘটনায় আলাদা আরো একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন আইনজীবী চন্দন সরকারে জামাতা বিজয় কুমার পাল।
দীর্ঘ একবছর তদন্তের পর তদন্ত সংস্থা ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল ওই দুই মামলায় নূর হোসেন ও র্যা বের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এজহারভূক্ত আসামিদের নাম বাদ পড়ায় বাদীপক্ষের নারাজি আবেদন নিম্ন আদালত পেরিয়ে উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। উচ্চ আদালতে আবেদন নামঞ্জুর হলে এবছরের ৮ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালত অভিগোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। ১২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৩০ জনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। ৩৫ জন আসামির মধ্যে ১২ জন এখনো পলাতক রয়েছে।
দ্রুত এ মামলা নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন বাদীপক্ষ সেলিনা ইসলাম বিউটি।
আর সাক্ষীদের নিরাপত্তায় মামলাটিতে সাক্ষী সুরক্ষায় আইনের প্রয়োগ চেয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন।
এদিকে, মামলা কার্যক্রম নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওয়াজেদ আলী, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুলতানুজ্জামান