মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আল বদর নেতা মতিউর রহমান নিজামীর বাড়ি সাঁথিয়ার মনমথপুর গ্রামে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেয়েছে সোমবার। এর পর থেকেই মূলত থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে পাবনার সাঁথিয়ায়।
নাশকতার আশঙ্কায় পাবনার বিভিন্ন স্থান থেকে ইতিমধ্যে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এই আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর জানান, নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলের পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের সম্ভাবনা নিয়ে কানাঘুষা ও চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জামায়াত অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত সাঁথিয়া উপজেলার স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা নিজামীর ফাঁসি দ্রুত কার্যকরের দাবি জানালেও ফাঁসি কার্যকর পরবর্তী পরিস্থিতি কী হবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ।
এদিকে ঢাকায় নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়ে সাঁথিয়া উপজেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ প্রশাসন।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করা নিয়ে যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে সাঁথিয়া উপজেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে নিজামীর গ্রামের বাড়ি মনমথপুর গ্রামে পুলিশের টহল জোরদার করা রয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
অপরদিকে উপজেলার মনমথপুর গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রামবাসীর মধ্যে চাপা আতঙ্ক ও নীরবতা বিরাজ করছে। নিজামীর ফাঁসির বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, ফাঁসি কার্যকরের পর এলাকার পরিস্থিতি কেমন থাকবে তা নিয়ে তারা আতঙ্কিত। তবে পরিস্থিতি যাতে শান্ত ও স্বাভাবিক থাকে সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাচ্ছি।
সাঁথিয়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল লতিফ জানান, আমাদের সবার চাওয়া নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হোক। এতে আমরা সাঁথিয়ার মুক্তিযোদ্ধাসহ সব মানুষ কলঙ্কমুক্ত হব। রায় ঘিরে আমরাও সতর্ক আছি।