ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুতে ভোলা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ১৬ জন নিহত হয়েছে—এরমধ্যে চট্টগ্রামে ৬ জন, নোয়াখালীতে ৩ জন, কক্সবাজারে ২ জন, ভোলায় ৩ জন, পটুয়াখালীতে ১ জন ও লক্ষ্মীপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ায় বিধ্বস্ত হযেছে সহস্রাধিক ঘরবাড়ি।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জায়গায় ২৭ টি বেড়িবাঁধ বিভিন্ন পয়েন্টে ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল। জোয়ারের পানি বেড়ে কক্সবাজারের দ্বীপ এলাকাসহ বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। ভোলায় মেঘনা নদীতে কার্গো জাহাজ ডুবে নিখোঁজ রয়েছে ৪ জন।
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে শনিবার সকাল থেকেই দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ঝড়, জলোচ্ছাস শুরু হয়। উপকূল অতিক্রম করার সময় গাছ উপড়ে, ঘরচাপা পড়ে ও পাহাড় ধসে বেশ কিছু প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
ভোলার তজুমদ্দিন, লালমোহন, মনপুরায় অন্তত দুই হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এসব এলাকায় গাছ চাপায় ৩ জন নিহত হয়েছে। গাছপালা উপড়ে পড়ে ভোলা সদরের সঙ্গে সাত উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে ভোলার তজুমউদ্দিন, লালমোহন, মনপুরা ও চরফ্যাশন উপজেলার ৩০টি গ্রাম। শুক্রবার রাত থেকে এ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।
ঝড়ে ভোলার মেঘনা নদীতে দু'টি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। দুই জাহাজের ৪ শ্রমিক এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
চট্টগ্রামে জলোচ্ছাসে তলিয়ে গেছে শতাধিক বাড়িঘর, দোকানপাট, লবন ঘের ও ফসলি জমি। কয়েক ঘন্টা স্থায়ী তীব্র ঝড়ের সময় পতেঙ্গা ও হালিশহরে বাঁধ ভেঙ্গে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে রয়েছে। ষোলশহরে ঝড়ের সময় মাথায় ইট পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হযেছে।
বাঁশখালীর খানখানাবাদ এলাকায় পানিতে তলিয়ে মারা গেছে ৩ জন।
এর আগে টানা বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে পাহাড় ধসে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ঝড় পরবর্তী পাহাড় ধসের আশঙ্কায় লালখান বাজার এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হচ্চে নিরাপদ আশ্রয়ে।
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া মহেশখালী, সেন্টমার্টিনসহ বিস্তীর্ণ দ্বীপ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কুতুবদিয়ায় দুই নৌকার মাঝখানে পড়ে মারা গেছে একজন। বেড়িবাঁধ ভেঙে কুতুবদিয়ায় ৪টি, মহেশখালীর ৩টি, টেকনাফের একটি, পেকুয়ায় ৩টি ইউনিয়ন লন্ডভন্ড হয়েছে।
কক্সবাজার পৌরসভার নাজিরটেকসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার কমপক্ষে ৭০ হাজার মানুষকে ১২৭ টি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়।
পটুয়াখালীতে কলাপারা ও রাঙাবালি উপজেলায় জোয়ারের পানিতে বাঁধ ভেঙে ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বেড়িবাধের বাইরে দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। দশমিনায় ঘরচাপা পড়ে মারা গেছে এক নারী।
নোয়াখালীর সোনাদিয়া ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঝড়ে নিঝুমদ্বীপে দুইশরও বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
জোয়ারের পানির তোড়ে বরগুনায় ১২টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। প্লাবিত হয়েছে এসব এলাকার ৪৩ টি গ্রাম। ঝড়ে লক্ষ্মীপুরে গাছ চাপায় মারা গেছে একজন।