আগে থেকে প্রস্তুতি থাকায় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে ঝড়-জলোচ্ছাসে ক্ষতি কম হয়েছে-সরকারের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি, পুলিশ, বিডিআর ও দমকল বাহিনীর আন্তরিক প্রয়াসে প্রাণহানি আর সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবের পর রোববার রাতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে 'জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সভায়' দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এসব কথা বলেন।
ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সভায় দুর্গতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে আর পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দের দাবি জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। জলোচ্ছাসে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলোর ব্যাপারেও আলোচনা হয় সভায়।
ত্রাণমন্ত্রী এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত চট্টগ্রামের উপজেলা চেয়ারম্যানরা বলেন, সন্দ্বীপ, আনোয়ারা, বাঁশখালী ও পটিয়া উপজেলায় মোট ৬০ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ ভেঙে গেছে। এছাড়া, ঝড়ে চট্টগ্রাম, ভোলা ও পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, চাঁদপুর, ঝালকাঠি, বরিশালসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও সম্পদেরও বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা এসময়, মন্ত্রীদের কাছ থেকে সরাসরি ত্রাণ বরাদ্দের দাবি করেন।
এসময় জেলা প্রশাসক জানান, আশ্রয় কেন্দ্রে এখনও যারা রয়েছেন তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আর মন্ত্রী বলেন, সাগরের উচ্চতা বাড়ায় নতুন করে বেড়ি বাঁধ নির্মাণের সময় সেটা মাথায় রেখে বাধ শক্তিশালী করে নির্মাণ করতে হবে। সেজন্য নতুন পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন শুকনো মৌসুমে বেড়ি বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করার পরামর্শ দেন।
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে ঝড়ে শনিবার গাছ ভেঙে ও বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়ে উপকূলীয় সাত জেলায় ২৭ জন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে শুধু চট্টগ্রামেই প্রাণ হারিয়েছে ১২ জন। এছাড়া, নোয়াখালীর হাতিয়ায়,ফেনী, কক্সবাজার, ভোলা, পটুয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে মারা গেছে।