ভিক্টোরিয়ার কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর হত্যাকারীদের সনাক্ত, গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে কুমিল্লায় মানববন্ধন করা হয়েছে।
সোমবার সকালে নগরীর কান্দিরপাড় পুবালী চত্বরে জাস্টিস ফর তনু এ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় মানববন্ধনে তনুর মা আনোয়ারা বেগম ও ছোট ভাই উপস্থিত ছিল।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কুমিল্লা শাখার সাধারণ সম্পাদক পরেশ কর, গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার সমন্বয়ক খায়রুল আনাম রায়হান, সংগঠক আবুল কাশেস হৃদয় ও তনুর মা আনোয়ারা বেগম।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তনু হত্যার ৯০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো আসামিদের সনাক্ত করা হয়নি। বক্তারা দ্রুত তনু হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওয়াতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তারা।
গত ১৩ জুন তনুর মরদহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়।
কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুমতাহিন বিল্লাহর আদালতে প্রতিবেদনটি দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী মো. ইব্রাহিম।
এর আগে তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. কে পি সাহা বলেন, মরদেহ বিকৃত হওয়ায় ময়নাতদন্তে তনুর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে তনুর সঙ্গে কারও শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল— তবে এটাকে ধর্ষণ বলা যায় না।
তিনি মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে 'পারিপার্শ্বিক অবস্থা' বিবেচনায় অধিকতর তদন্তের কথা বলেন।
তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের পক্ষ থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) জমা দেয়া হয়।
প্রায় আড়াই মাস আগে গত ৩০ মার্চ কবর থেকে তনুর মরদেহ তুলে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত হয়। আদালতের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড এ ময়নাতদন্ত করে।
ওই সময় তনুর শরীরের বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করায় সিআইডি। ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়।
ওই ডিএনএ প্রতিবেদন দেয়া হচ্ছে না—এ অজুহাতে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিতে এতদিন কালক্ষেপণ করে মেডিকেল বোর্ড।
গত ২০ মার্চ খুন হন তনু— ওই দিন রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরদিন প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। তাতে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে পারেনি ও ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে তথ্য গোপন করার অভিযোগ ওঠে। তনুর মা-বাবাও ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।